1. admin@idealmediabd.com : Sultan Mahmud : Sultan Mahmud
আকাশ বাড়িয়ে দাও || প্রিন্স আশরাফ - ইত্তেহাদ টাইমস
বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
মতবিরোধ পরিহার করে মুসলিমদের এক হওয়ার ডাক দিলেন এরদোগান ট্রাম্প সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন, দায় তাকেই নিতে হবে: নির্বাচনী কর্মকর্তা দেশে করোনাভাইরাসে আরও ৩৮ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২১৯৮ বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান এবার উন্মুক্ত স্থানে নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করোনায় দেশে গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৩১ মৃত্যু, শনাক্ত ২২৯৩ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর রোগমুক্তি কামনায় গোয়াইনঘাট গ্রাম পুলিশের মিলাদ মাহফিল সাঈদুর রহমান লিটনের কবিতা “ফুলকি” দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাখাসসুসের মাদরাসা প্রতিষ্ঠা জরুরি : আল্লামা আলিমুদ্দিন দুর্লভপুরী মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে কঠোর হচ্ছে সরকার নাইজেরিয়ায় নামাজের সময় মসজিদে সন্ত্রাসীদের হামলা; নিহত ৫

আকাশ বাড়িয়ে দাও || প্রিন্স আশরাফ

রিপোর্টার নাম:
  • প্রকাশটাইম: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২০

 

আকাশ বাড়িয়ে দাও || প্রিন্স আশরাফ

স্কুলের বাইরের খাবারের দোকানগুলোকে মা বিষ নজরে দেখেন।
আজও স্কুল ছুটির পরে রিয়ার আবদারে আইসক্রিম কিনে দিতে হলো।
মায়ের হাতে ব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে উৎফুল্ল রিয়া আইসক্রিমে কামড় বসাতে বসাতে বলল, ‘আকলিকে কিন্তু দেব না মা।’
‘ঠিক আছে দিও না।’
রিয়ার বয়সী গৃহকর্মী আকলি রিয়ার হাতের আইসক্রিমের দিকে একবার তাকাল। তারপর প্লেট পরিষ্কার করে ডাইনিংয়ের কাচের জিনিস গুছিয়ে রাখতে লাগল।
কাচের গ্লাস হাত থেকে পড়ে ভেঙে খান খান হয়ে যাওয়ার শব্দ ছড়িয়ে পড়ল ঘর জুড়ে। অন্যঘরে টেলিভিশনের শব্দ। হিন্দি সিরিয়াল চলছে। কাচের গ্লাস ভাঙার শব্দে মা বেডরুম থেকে ছুটে আসেন। আকলির পা ভাঙা গ্লাসের কাচে কেটে গেছে। মেয়েটা যন্ত্রণায় বসে পড়েও পায়ের নিচের রক্ত আড়াল করে।
মা ছুটে এসে আকলির গালে সজোরে থাপ্পড় কষান। তারপর আবার টিভিঘরে চলে যান। মায়ের উগ্রমুর্তি দেখে রিয়া নিজের ঘরে যায়। আকলি ভাঙা কাচ কুড়িয়ে ময়লার পাত্রে রাখে। পায়ের নিচে রক্ত একটা ফুলের পাপড়ির আকৃতি। যন্ত্রণা ভুলে যায় সে। পায়ের বুড়ো আঙুলে রক্ত দিয়ে ফুল এঁকে ফেলে আকলি।
রিয়া ভয়ে ভয়ে মায়ের রুমে আসে। স্কুল ব্যাগ থেকে একটা কাগজ বের করে।
মা টিভির থেকে চোখ সরিয়ে বললেন, ‘ক্লাসে ঠিকঠাক করেছিস সব?’
রিয়া কাগজটা বাড়িয়ে ধরল। ‘স্কুল থেকে ছবি আঁকার প্রজেক্ট দিয়েছে। স্বাধীনতার ছবি। মা আমি তো ভাল ছবি আঁকতে পারি না।’
‘আয়। আমি দেখিয়ে দিচ্ছি। এক সময় আমিও ছবি আঁকতাম।’
মা রিয়াকে ড্রয়িং শেখাতে গিয়ে বেশ বিরক্ত হলেন। রিয়া ঠিকমতো পারছে না। আকলি ঘর মুছতে মুছতে উঁকি দিয়ে ছবি আঁকা দেখে। মেঝেতে পড়ে থাকা ছবি আঁকার কাগজ। এক টুকরো লাল রঙ। আকলি রঙটা কুড়িয়ে নেয়। তারপর রান্নাঘরে গিয়ে বসে বসে ওর ছোট্ট ট্রাংক খুলে কাগজ বের করে ছবি আঁকে।
বেড রুম থেকে আবার টিভির সিরিয়ালের শব্দ ভেসে আসে।
পা টিপে টিপে রান্না ঘরে আসে রিয়া। আকলির ছবি আঁকা দেখে। তারপর পিঠে একটা ঘুষি দিয়ে ওর কাছ থেকে ছবি আঁকার কাগজটা কেড়ে নিয়ে চেঁচাল, ‘মা, আকলি আমার রঙ আর কাগজ চুরি করেছে। এই লাল রঙটা আমি খুঁজে পাচ্ছিলাম না।’
মা এসে ধমক লাগায় ‘এই চোরের বাচ্চা। ওর রঙ চুরি করেছিস কেন? আবার ছবি আঁকার শখ। দেখাচ্ছি তোর ছবি আঁকা।’
মা আকলির চুলোর মুঠি ধরে মারতে থাকেন। রিয়া আকলির আঁকা ছবিটা কুচি কুচি করে ছিড়ে মেঝেতে ছড়িয়ে দেয়।
আকলি কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘আমি চুরি করিনি। কুড়াইয়ে পাইছি। আপায় ফেলে দিছিল।’
মা রান্না ঘরে আসেন। আকলির ট্রাংক খুলে ফেলে সব ছড়িয়ে দেন। হাবিজাবি জিনিস। তার মধ্যে নানান রঙের টুকরো। কয়েকটা ছেড়া কাগজে ছবি আঁকা।
মা ছবি আঁকা কাগজগুলো দেখেন। স্কুলের ছবি। বইয়ের ছবি। একটা ছবিতে চোখ আটকে যায় মায়ের। এক মায়ের দুহাতে দুই মেয়ে। স্কুল ড্রেস পরা। ছবিটা দেখে মায়ের মনটা ভারী হয়ে ওঠে। আকলি তো রিয়ারই মতো। রিয়ার চেয়ে কত সুন্দর ছবি এঁকেছে!
পরদিন সকালে মা রিয়ার পুরানো স্কুল ড্রেস আকলিকে পরিয়ে পুরানো স্কুল ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে দিয়ে বলেন, ‘চল, আমার সাথে, আজ থেকে তুইও রিয়ার সাথে স্কুলে যাবি।’
আকলির মুখের হাসি একান ওকান হয়ে যায়।
মা এক হাতে রিয়া ও অন্য হাতে আকলিকে ধরে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। যেন ঠিক আকলির আকাঁ সেই ছবি!

 

লেখক:- সহসম্পাদক, জাতীয় দৈনিক যায়যায়দিন।

 

এটি//

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
copyright 2020: ittehadtimes24.com
Theme Customized BY MD Maruf Zakir