1. admin@idealmediabd.com : Sultan Mahmud : Sultan Mahmud
আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী রাহ. : জীবন, চিন্তাধারা ও রাজনীতি - ইত্তেহাদ টাইমস
বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
মতবিরোধ পরিহার করে মুসলিমদের এক হওয়ার ডাক দিলেন এরদোগান ট্রাম্প সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন, দায় তাকেই নিতে হবে: নির্বাচনী কর্মকর্তা দেশে করোনাভাইরাসে আরও ৩৮ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২১৯৮ বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান এবার উন্মুক্ত স্থানে নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করোনায় দেশে গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৩১ মৃত্যু, শনাক্ত ২২৯৩ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর রোগমুক্তি কামনায় গোয়াইনঘাট গ্রাম পুলিশের মিলাদ মাহফিল সাঈদুর রহমান লিটনের কবিতা “ফুলকি” দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাখাসসুসের মাদরাসা প্রতিষ্ঠা জরুরি : আল্লামা আলিমুদ্দিন দুর্লভপুরী মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে কঠোর হচ্ছে সরকার নাইজেরিয়ায় নামাজের সময় মসজিদে সন্ত্রাসীদের হামলা; নিহত ৫

আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী রাহ. : জীবন, চিন্তাধারা ও রাজনীতি

রিপোর্টার নাম:
  • প্রকাশটাইম: শনিবার, ২০ জুন, ২০২০

আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী রাহ. :
জীবন, চিন্তাধারা ও রাজনীতি

পর্ব-১

আল্লামা আলিমুদ্দীন দুর্লভপুরী 

ভূমিকা: ১৮৪৭ খ্রিষ্টাব্দের সিপাহী বিপ্লবের পর পূর্বসূরি আসলাফ-আকাবিরের চিন্তাধারা ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রকৃত বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে, ইসলাম ও মুসলমানের চিরশত্রু ইয়াহুদ-নাসারার লালিত এনজিওদের ইসলামবিরোধী অপতৎপরতার সঠিক মোকাবেলার লক্ষ্যে ভারত উপমহাদেশের ইসলামী শিক্ষা-দীক্ষার প্রচার-প্রসার ও প্রশিক্ষণ চর্চার মহৎ উদ্দশ্যে ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় দারুল উলুম দেওবন্দ। হযরত শাহ ওলিউল্লাহ রাহ. বিজ্ঞান প্রযুক্তির সূচনাকালীন যুগে বিশ্ববাসির সামনে মানুষের ইহ-পরকালীন কল্যাণের গ্যারান্টি স্বরুপ যে ইসলামীদর্শন উপস্থাপন করেছিলেন, তা বাস্তবায়নের কেন্দ্ররুপে পরবর্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্বখ্যাত সেই বিদ্যানিকেতন, যার ঐতিহাসিক নাম ‘দারুল উলুম দেওবন্দ।

সেই প্রতিষ্ঠান যে ক’জন ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ মুসলিম জাতির সেবক ও সংস্কার রুপে জন্ম দিয়েছিলো, তাঁদের অন্যতম ছিলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি আদর্শপুরুষ, আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটের গর্ব দেওবন্দের সূর্যসন্তান, প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ,শাইখুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী রাহ.। তিনি একজন যুগশ্রেষ্ঠ শাইখুল হাদীস, মুফাস্সির ও ফকিহ ছিলেন। সাথে সাথে সাহিত্যিক ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ান ছিলেন।

জন্ম ও বাল্যশিক্ষা:

শাইখুল ইসলাম মুশাহিদ বায়মপুরী রাহ. ১৩২৭ হিজরী মোতাবেক ১৯০৭ ইংরেজিতে মহররম মাসে শুক্রবার দিনে সিলেট জেলার কানাইঘাট থানাধীন বায়মপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ক্বারী আলিম মিয়া ও মাতা হাফিজা সুফিয়া বেগম উভয়ই অত্যন্ত দ্বীনদার ও পরহেজগার ছিলেন। অল্পবয়সে বায়মপুরী রহ পিতৃহারা হোন। ফলে মায়ের অভিবাকত্বে তিনি লালিত পালিত হোন। মাতা মুহতারামা বাংলা ও উর্দূতে দক্ষ ছিলেন। শৈশবে মার কাছ থেকে তিনি ৭ বছর বয়সে কুরআন মাজিদসহ বাংলা ও উর্দু শিক্ষা করেন। তারপর গ্রামের পাঠশালায় ভর্তি হোন। এবং ১০ বছর বয়সে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে তৎকালীন কানাইঘাট ইসলামিয়া মাদরাসায় ভর্তি হোন। সে মাদরাসায় সাত বছর অধ্যয়ন করেন। সে সময় থেকে পড়াশুনার সাথে তার চিন্তা-গবেষণার সূচনা হয়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, এ বয়সেই তাঁকে অত্যন্ত ভাবগম্ভীর দেখা যেতো।

দারুল উলুম দেওবন্দে গমন:
তিনি ২০ বছর বয়সে প্রথমে ভারতের রামপুর আলিয়া মাদরাসায় ভর্তি হয়ে ৫ বছর, পরবর্তিতে মিরাঠ আলিয়া মাদরাসায় তাফসির, হাদিস আকাঈদ, ফিকহ্ ইত্যাদি বিষয়ে ২ বছর অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে অধ্যয়ন করেন। পরে সিলেট প্রত্যাবর্তন করত মাঝে ২ বছর লালারচক কানাইঘাট মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। কিন্তু এযাবত শিক্ষা-দীক্ষা তাঁকে তৃপ্ত করতে সক্ষম হচ্ছিলো না এবং আল্লাহর ইচ্ছায়ই সর্বোচ্চ জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে দারুল উলুম দেওবন্দে চলে যান। এবং ১৯৩৬ ইংরেজিতে সেখানে ভর্তি হয়ে প্রায় দেড় বছর সুনামের সাথে পড়াশুনা করেন। হাদিসের সর্বোচ্চ ক্লাসের সর্বশেষ পরীক্ষায় মেধাতালিকায় সর্বোচ্চ নম্বর লাভ করে ১ম স্থান অধিকার করেন। শাইখুল ইসলাম বায়মপুরী রাহ. ছিলেন বাংলাদেশের ঐ সব মেধা প্রতিভাসম্পন্ন যুগশ্রেষ্ট জ্ঞানীগুণীদের অন্যতম কীর্তি পুরুষ, যাঁরা দেওবন্দের হাদীসের সর্বোচ্চ শ্রেণীতে ১ম স্থান অধিকার করেছিলেন। তখন দেওবন্দের নির্ধারিত নম্বর ছিল ৫০। দাওরায়ে হাদিসের এগারোটি কিতাবের মাঝে তিনটিতে ৫০ করে আর বাকি আটটিতে ৫৫ করে নম্বর অর্জন করেছেন। জনশ্রুতি রয়েছে বায়মপুরী রহ ‘র বোখারী শরীফের পেপারটি তার ক্ষুরধার লেখনি ও গভীর জ্ঞানের অধিকারী হওয়ার কারণে দেওবন্দ কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেছিলেন।

কর্ম জীবন:
ভারত বিভক্তির পর হযরত বায়মপুরী রাহ. কিছুদিন তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানে আত্মগোপনে থাকার পর ভারতে চলে যান। কারণ সিলেটের যেসব উলামায়ে কেরাম অখন্ড ভারতের দাবিদার ছিলেন, তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। স্থানে স্থানে পাকিস্তানের দাবিদার মুসলিমলীগের সাথে তাঁর বাহাস-বিতর্কসভা হয়েছে। সবকটিতে যুক্তি প্রমানের নিরিখে তিনি ছিলেন অজেয়। পাকিস্তান সৃষ্টি ছিলো বৃটিশের এক গভীর ষড়যন্ত্র। যা তারা তাদের কতিপয় দোসরের মাধ্যমে সাধন করে। আর রচিত হয় পাক-ভারত উপমহাদেশের মুসলমানদের বিড়ম্ভনার ইতিহাস। সাদা চামড়াওয়ালাদের তৈরী খেয়ালি পোলাও খাওয়ার আনন্দে মতোয়ারা আত্মভোলা জনগনের হুযুগের ফলাফল ছিলো পাকিস্তান। ভারতে চলে যাওয়ার পর সেখানে তিনি অত্যন্ত সমাদৃত হোন। কারণ ভারতবর্ষে ইলমে ওহীর নন্দনকাননে তিনি পূর্ব থেকেই পরম নন্দিত ব্যক্তি।

দারুল উলুম দেওবন্দের শাইখুল হাদীস পদে মাদানী রাহ. এর পর যে তিন জনকে বাছাই করা হয়েছিলো, তিনি তাঁদের একজন।
বাকি দুজন ছিলেন, সাহারনপুরের শাইখুল হাদীস হযরত মাওলানা জাকারিয়া সাহেব রাহ. ও হযরত মাওলানা ফখরুদ্দিন মুরাদাবাদী রাহ। যিনি পরে শাইখুল হাদীস পদে অধিষ্ঠিত হোন। দীর্ঘদিন ভারতের রামপুর ওবদর পুর আলিয়া মাদরাসায় শিক্ষাদানের পর মাতৃভুমির টানে ও সিলেটী কয়েকজন হৃদয়বান ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় মক্কা হয়ে সিলেটে আসেন। এবং সিলেট আলিয়া মাদরাসায় তিনবার শাইখুল হাদিস হিসেবে অধিষ্টিত হোন। এবং গাছবাড়ী মাদরাসায় ও হাদিসের শিক্ষা দান করেন।কানাইঘাট দারুল উলুম প্রতিষ্ঠার পূর্বে তার সর্বশেষ কর্মস্থল ছিলো গাছবাড়ী মাদরাসা। গাছবাড়ি মাদরাসায় তাঁর চিন্তা-ধারার অনুসারী ও সহকর্মী যারা ছিলেন,:তাদের ইলমী যোগ্যতা দেখে মনে হত যে, গাছবাড়ী হবে দ্বিতীয় দারুল উলুম দেওবন্দ। কিন্তু গাছবাড়ী ও তথাকার অবস্থান হয়ত সে রকম না হওয়া আল্লাহর ইচ্ছে।

২য় পর্ব আসছে…

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
copyright 2020: ittehadtimes24.com
Theme Customized BY MD Maruf Zakir