1. admin@idealmediabd.com : Sultan Mahmud : Sultan Mahmud
  2. abutalharayhan62@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  3. nazimmahmud262@gmail.com : Nazim Mahmud : Nazim Mahmud
  4. tufaelatik@gmail.com : Tufayel Atik : Tufayel Atik
ইসলাম, জিহাদ এবং জঙ্গিবাদ - ইত্তেহাদ টাইমস
মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
৭৫-এ পা রাখলেন শেখ হাসিনা : অকুতোভয় মানসিকতাই যার দেশ গড়ার শক্তি কানাইঘাট দিঘীরপাড় ইউপিতে ভিজিটির চাল বিতরণ কানাইঘাটে ৫শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা : প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন নবির সুন্নাহ দাড়ি কাটায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তা লে বা ন শেখ হাসিনা একমাত্র চরিত্রবান : ওবায়দুল কাদের সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা : শিশুসহ নিহত ৩ প্রতিদিন কমলা ও স্ট্রবেরি খাওয়ার উপকারিতা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ, ৩ সংবাদকর্মীসহ আহত ১৩ আকর্ষণীয় বেতনে গুরুত্বপূর্ণ ৬ পদে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দেবে দারুর রাশাদ মাদরাসা মক্তবে যাওয়ার পথে ট্রাকচাপায় মাদ্রাসাছাত্র নিহত

ইসলাম, জিহাদ এবং জঙ্গিবাদ

সৈয়দ মবনু
  • প্রকাশটাইম: সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১

জিহাদ আর জঙ্গিবাদ সমার্থক নয়। ইসলাম জিহাদকে সমর্থন করলেও জঙ্গিবাদকে ঘৃণা করে। কুরআন- হাদিসে যেমন নামায, রোযা, হজ, যাকাতের নিজস্ব কিছু নিয়ম-নীতি রয়েছে, তেমনই রয়েছে জিহাদেরও। নামাযে যেমনই ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, নফল, মুস্তাহাব রয়েছে তেমনই জিহাদেও রয়েছে। জিহাদ স্থান, কাল, পাত্র বিশেষ বিভিন্ন স্থরের হয়ে থাকে। জুম্মা এবং ইদের নামায যেমন ইমাম ছাড়া পড়লে শুদ্ধ হয় না, তেমনই জিহাদ আমির ছাড়া হতে পারে না। জিহাদের জন্য অবশ্যই আমির জরুরী। জিহাদের আমির যিনি হবেন তাঁর অবশ্যই কুরআন-হাদিসের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান থাকতে হবে, আধ্যাত্মিক সাধনা থাকতে হবে, জীবনে জ্ঞান বুদ্ধি কর্ম এবং প্রেমের সমন্বয় থাকতে হবে, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় এবং আন্তর্জাতিক দুনিয়া সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। লোভ, ক্ষোভ এবং কাম নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। এই গুণ না থাকলে জিহাদের নেতা হতে পারবেন না। দেশের সাধারণ মানুষের সামনে জিহাদের ফাযায়েল ততক্ষণ পর্যন্ত বলা উচিত নয় যতক্ষণ পর্যন্ত তারা জিহাদের শ্রেণী বিন্যাস এবং মাসআলা বুঝতে পারবে না। কিতালের বিধান বর্ণিত হবে শুধু নিয়মতান্ত্রিক সৈনিক বা মুজাহিদদের সামনে। যারা জিহাদের পথে থাকবেন তাদের ফতোয়াবাজী বন্ধ করতে হবে, কাউকে তাকফির বা নাস্তিক-মুরতাদ হুট করে বলা যাবে না। মন চাইলেই কাউকে আঘাত করা যাবে না। কেউ যদি অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে আসে কিংবা যুদ্ধের ঘোষণা করে তবে আমিরের অনুমতিক্রমে জিহাদে যাওয়া যাবে। আমিরের অনুমতি ছাড়া কোন প্রকারের কার্যক্রম জায়েজ নয়।আমির হতে হবে শরিয়ত সম্মত। আমিরের বয়স হতে হবে চল্লিশের কাছাকাছি থেকে সত্তরের মধ্যে, এটা হযরত রাসূল ( স.) এর নবুওয়াতির জীবন। আমিরের অধিনে কামান্ডার হতে পারেন যে কোম বয়সের। কাউকে শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব আদালতের, মুজাহিদ বা সৈনিকের নয়। কারো উপর আদালত না করে বিচার কার্যকর করা যুলুম এবং শরিয়তের পরিপন্থী।
আমি যে বর্ণনা দিলাম তা কুরআন – হাদিসে বর্ণিত জিহাদের নিয়ম-নীতি অধ্যয়ন করলে পেয়ে যাবেন। কুরআানের বিষয় ভিত্তিক আয়াতের বই রয়েছে, প্রয়োজনে সেই বই খরিদ করে জিহাদের আয়াতগুলো বের করে তাফসির পড়তে পারেন। হাদিসের সিয়াসিত্তা অর্থাত সহীহ বুখারী, সংগ্রাহক: ইমাম বুখারী (মৃ. ৮৭০),
সহীহ মুসলিম, সংগ্রাহক: মুসলিম বিন হাজ্জাজ (মৃ. ৮৭৫), সুনানে নাসাই, সংগ্রাহক: ইমাম নাসাই (মৃ. ৯১৫), সুনান আবু দাউদ, সংগ্রাহক: আবু দাউদ (মৃ. ৮৮৮),সুনান আল-তিরমিজী, সংগ্রাহক: মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিজি (মৃ. ৮৯২), সুনান ইবনে মাজাহ, সংগ্রাহক: ইবনে মাজাহ (মৃ. ৮৮৭), পৃথক জিহাদের অধ্যায় রয়েছে, পড়তে পারেন। জিহাদের শরয়ি বিধান যাদের জানা নেই তাদের সামনে উত্তেজনামূলক জিহাদী কথা বলা যাবে না। কারণ, সে উত্তেজিত হলে বেশরিয়তি কাজ করে নিতে পারে। জিহাদের ময়দানে নিজের নফসের খুশির জন্য কিছু করা যাবে না। এখানে মাকসুদ বা উদ্দেশ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি। কীভাবে কোন কাজ করলে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন, তা তিনি নিজে বর্ণনা করে দিয়েছেন। আল্লাহর হাবিব হযরত রাসূল (স.) নিজ আমল দিয়ে আল্লাহর আইন পালন করে দেখিয়ে দিয়েগেছেন। হয়রত সাহাবায়ে কেরাম (রা.) হযরত রাসূল (স.)-এর আনুগত্য করে দেখিয়ে দিয়েগেছেন কীভাবে কুরআন-হাদিসের আনুগত্য করতে হয়। কুরআনে স্পষ্ট বলা আছে; তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহ এবং রাসূলের। আর তাদের, যারা আল্লাহ এবং রাসূলের আনুগত্য করেছে।
মুসলমানদের স্মরণ রাখতে হবে; নিজের মনগড়া চিন্তা দিয়ে জিহাদ-জিহাদ বলে চিৎকার দিলে জিহাদ হয় না, বিচ্ছিন্নবাদী সংগঠনগুলোর মত যেখানে সেখানে বোমাবাজি করলে জিহাদ হয় না। ইসলাম কোন বিচ্ছিন্নবাদী সংগঠনের নাম নয়। ইসলাম হলো একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম। জীবনের প্রয়োজনে যত কিছু রয়েছে সবকিছুর বিধান ইসলামে আছে, এরমধ্যে একটি হলো জিহাদ। বাকী সবকিছুর আলোচনা বাদ দিয়ে শুধু জিহাদের আলোচনা করলে মানুষ বিভ্রান্ত হয় এবং জিহাদ আর সন্ত্রাসকে সমার্থক ভাবতে থাকে। তাই যারা ইসলামের কথা ভাবেন, ইসলাম নিয়ে চিন্তা করেন তাদের উচিত ব্যাপক অর্থে ইসলামকে বিবেচনা করে মানুষের সামনে উপস্থাপিত বিভ্রান্তিকে দূর করা। যারা জিহাদ শব্দ শুনলে বিভ্রান্ত হন জঙ্গিবাদ আর সন্ত্রাসের সাথে তাদেরকে বুঝাতে হবে জিহাদ কোরআন-হাদিসের বিষয়, জিহাদ হলো সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের শত্রু। প্রকৃত মুসলমান কোনদিন সন্ত্রাসী বা জঙ্গিবাদি হয় না, হতে পারে না। বাংলাদেশের আলেম সমাজ সবসময়ই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী, অবশ্যই তারা কুরআন হাদিসে বর্ণিত জিহাদ বিরোধী নয়। কওমি মাদরাসাগুলোতে সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদের কোন চর্চা অতীতেও ছিলো না, আজও নেই। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা যদি মাঝেমধ্যে পাওয়া যায়, অনুসন্ধানে দেখা যায় ওরা বাহির থেকে এসে পোশাক পরিবর্তন করে মিশতে চেষ্টা করেছে, তবে মিশতে পারেনি বলে ধরা খেয়ে যায়। মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকেরা অনেক আবেগি এবং দ্বীনের জন্য অন্তরে প্রেম অনুভব করেন, ফলে অনেক সময় তারা বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে ইখলাসের সাথে, দ্বীন রক্ষার প্রশ্নে। এজন্য কিছুটা আমাদের নোট ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা দায়ী। পরীক্ষায় পাশ করা যখন উদ্দেশ্য হয়ে যায়, সার্টিফিকেটের নাম যখন আলেম আর মুফতি হয়ে যায় তখন ইলম লুপ্ত হয় মুখস্থ নোটের মধ্যে। আমাদের মাদরাসাগুলোকে এই পরীক্ষা আর নোট ভিত্তিক লেখা-পড়া থেকে বের করতে না পারলে জ্ঞানী, চিন্তাশী, ধৈর্যশীল, আখলাকওয়ালা আলেম ব্যাপকহারে পাওয়া যাবে না। আমাদের এই মুহূর্তে প্রয়োজন এমন একদল আলেম নেতা যাদের মধ্যে জ্ঞান, বুদ্ধি, কর্ম এবং প্রেমের সমন্বয় রয়েছে। যারা দুনিয়া-আখেরাতের খবর রাখেন এবং কর্মে কৌশলী থাকেন। যাদের মধ্যে শত শত ভূমিকম্পের পরও বেঁচে থাকে মানুষের প্রতি এহতেরাম, মহব্বত, রহম, ইজ্জত এবং নিজের ঈমানে তারা সবসময় দৃঢ় থাকেন। তরুণ প্রজন্মের আলেমদের এই স্থান থেকে ভাবতে হবে। ঢাল নেই, তলোয়ার নেই, নাদিরাম সর্দারের মতো শুধু জিহাদ আর কিতালের প্রচার করলে হবে না। জ্ঞান -বিজ্ঞানকে বুঝতে হবে। বুঝতে হবে স্থান, কাল, পাত্র। ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশ একটি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এমন দেশে আত্মহত্যা সহজ, ঠিকে থাকা সহজ নয়। বাংলাদেশের অার্থনৈতিক অবস্থা, সমাজিক অবস্থা, শিক্ষা-সংস্কৃতিকে বুঝতে হবে। নতুবা একহাত সামনে গিয়ে তারপর পালিয়ে তিন হাত পিছনে যেতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ইত্তেহাদুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন-এর একটি প্রতিষ্ঠান copyright 2020: ittehadtimes24.com  
Theme Customized BY MD Maruf Zakir