1. admin@idealmediabd.com : Sultan Mahmud : Sultan Mahmud
ইসলাম শান্তি ও নিরাপত্তার এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছে - ইত্তেহাদ টাইমস
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:

ইসলাম শান্তি ও নিরাপত্তার এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছে

রিপোর্টার নাম:
  • প্রকাশটাইম: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০

মাওলানা সুলতান মাহমুদ বিন সিরাজ

ইসলাম শব্দের অর্থ সমর্পণ, নিরাপত্তা ও শান্তি। ধর্মীয় পরিভাষায় ইসলাম এর অর্থ, বিশ্বস্রষ্টা মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট আত্মসমর্পণ করা এবং তাঁর যাবতীয় আদেশ নিষেধ মেনে নেয়া। ইসলাম যে শান্তি ও আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য ধর্ম সেটা মহান প্রভু পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন এবং বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত নবী করীম সাল্লাল্লাহু ওয়াসাল্লামও তাঁর পবিত্র হাদীসে বর্ণনা করেছেন। বর্তমান বিশ্বের অমুসলিম পণ্ডিতেরাও মানে যে, ইসলাম শান্তি ও কল্যাণকামী ধর্ম। ইসলামের সূচনালগ্নে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মানবকল্যাণের জন্যে ইসলামী বিধানকে কিছুটা শিথিল করা হয়েছিলো বিধানের মালিক স্বয়ং আল্লাহর পক্ষ থেকে। মানবশূন্য পৃথিবীতে আদম আলাইহিস সালাম এর সন্তানদের মধ্যে একে অপরের সাথে বিয়ের বিধানই ছিলো তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। এ সময়ে এ বিধান ছাড়া মানবকল্যাণ সম্ভব ছিলো না বলেই বিধাতা সেই বিধান করে দিয়েছিলেন। এমনি আজকের পূর্ণাঙ্গ ইসলামের যুগেও একটি বেগানা মহিলার কাপড়ে আগুন লাগলে অন্য কোনো উপায়ান্তর না থাকলে উপস্থিত একজন পর পুরুষের জন্যে ফরজ হয়ে যায় ওই মহিলাকে সাথে সাথে উলঙ্গ করে ফেলে আগুন থেকে রক্ষা করা। কতই না-যুক্তিপূর্ণ বিধান! কতই না-সুন্দর শান্তির ধর্ম! যেখানে এক নজর তাকানোও বৈধ ছিল না, সেখানে দুঃসময়ে ওই মহিলাকে উলঙ্গ করে ফেলার বিধান দেয়া হয়েছে।

ইসলাম যেহেতু শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম, তাই ইসলাম কাউকে অহেতুক কষ্ট দেয়ার পক্ষে নয়। ইসলাম সবার জন্যে নিরাপদ। হোক না-সে অমুসলিম কিংবা অন্য কোনো প্রাণী,আস্তিক বা নাস্তিক, পদার্থ কিংবা অপদার্থ । ইসলাম প্রথমে দুনিয়াকে ধারাবাহিকভাবে নিরাপত্তা ও ভালোবাসার শিক্ষা দিয়েছে এবং তার সামনে চারিত্রিক একটি স্থায়ী মূলনীতি পেশ করেছে। যার নাম পবিত্র ‘কুরআন’। ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব শান্তি ও নিরাপত্তার এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। বৈজ্ঞানিক নৈপুন্যতা ও চারিত্রিক গুণাবলী এবং উচ্চ গবেষণার দ্বারা একে ব্যাপক করেছে।

পৃথিবীতে যতোই ধর্ম থাকুক না কেনো,যতো ধর্মের অাবিষ্কার হোক না কেনো; ইসলামই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থার নাম। ইসলামই ন্যায়, ইনসাফ, শান্তি, ভালোবাসা, কল্যাণ ও মানবতার ধর্ম। ইসলাম সবসময় মধ্যপন্থা অবলম্বনেরও শিক্ষা দেয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ইচ্ছে এটাই যে, তাঁর বান্দা যেনো মধ্যপন্থা অবলম্বন করে জীবন পরিচালনা করে। কোনোভাবেই যেনো অহঙ্কার প্রকাশ না পায়।

এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক বলেন, ‘আর (অহঙ্কারবশে) মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং ঔদ্ধত্যের সঙ্গে পৃথিবীতে চলাফেরা করো না। আল্লাহ কোনো অহঙ্কারী ও দাম্ভিককে পছন্দ করেন না। আর তোমার চলাফেরায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করো এবং তোমার কণ্ঠস্বর নিচু রাখো। নিশ্চয় সবচেয়ে অপ্রীতিকর স্বর হলো গাধার স্বর’ (সুরা লুকমান, আয়াত : ১৮-১৯)।

এই আয়াতদ্বয় থেকে বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, আল্লাহ কোনো অহঙ্কারী ও দাম্ভিককে যেমন পছন্দ করেন না, অন্যদিকে তিনি চান তাঁর বান্দা যেন মধ্যপন্থা অবলম্বন করে। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের অন্যত্র আল্লাহপাক বলেন, ‘আর এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী উম্মতরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি যেন তোমরা (গোটা) মানবজাতির তত্ত্বাবধায়ক হও এবং এ রাসুল তোমাদের তত্ত্বাবধায়ক হয়’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৪৩)।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরও বলেন, ‘তুমি বল, তোমরা আল্লাহ বলে ডাকো বা রহমান বলে ডাকো, যে নামেই তাঁকে ডাকো, সব সুন্দরতম নাম তাঁরই। আর তুমি তোমার দোয়া অতি উঁচু স্বরেও করো না বা অতি নিম্ন স্বরেও (করো না), বরং এ দুয়ের মাঝামাঝি পথ অবলম্বন করো’ (সুরা বনী ইসরাইল, আয়াত : ১১০)।

তাই আমরা যা কিছুই করি না কেনো মধ্যপন্থা অবলম্বন করাই শ্রেয়। হাদিসের বিভিন্ন স্থানে এ বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে, যেমন হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘দ্বীন সহজ। যে কেউ দ্বীনের কাজে বেশি কড়াকড়ি করে তাকে দ্বীন অবশ্যই পরাজিত করে দেয়। কাজেই তোমরা মধ্যপন্থা অবলম্বন করো এবং দ্বীনের কাছাকাছি হও, আর হাসিমুখে থাকো এবং সকালে ও রাতের কিছু অংশে ইবাদতের মাধ্যমে সাহায্য চাও’ (বোখারি, কিতাবুল ইমান)।

ইসলাম অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করার পক্ষে নয়। যেমন অাল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,যে ব্যক্তি পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টির লক্ষ্যে অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করলো,সে যেনো পুরো মানবজাতিকে হত্যা করলো। (সূরা মায়িদা : ০৩)

রাসুলে পাক সা.বলেন,যে ব্যক্তি মানুষের উপর দয়া করে না, অাল্লাহ তার ওপর দয়া করেন না।

অারো কত্ত যে অায়াত-হাদীস অাছে এ বিষয়ের ওপর-বলে শেষ করা যাবে না।

এবার শুনি এক হিন্দু পণ্ডিত কী বলেন। বিখ্যাত স্কলারশিপ মহাত্মা গান্ধি কত সুন্দর বলেছেন,
“ইসলাম তার গৌরবময় দিনগুলোতে অসহিষ্ণু ছিলো না। তাই অর্জন করতে পেরেছিলো দুনিয়ার শ্রদ্ধা ও ভক্তি। প্রতিচ্য যখন অন্ধকারে নিমজ্জিত, প্রাচ্যের অাকাশে উদিত হলো এক উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং অার্তপৃথিবীকে দিলো অালো ও স্বস্তি।
ইসলাম একটি অতিসত্যি ধর্ম। শ্রদ্ধার সাথে হিন্দুরাও যদি তা অধ্যায়ন করে, তাহলে অামার মতো তারাও একে ভালোবাসবে।” (বাণী চিরন্তনী)

গত কয়দিন অাগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, রাসুল সা.এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করা অামাদের উচিৎ। (গণমাধ্যম)

হিন্দু হয়েও ইসলাম ও ইসলামের নবী সা.এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বলার ছিলো অনেক কিছু, কিন্তু লেখা লম্বা হয়ে যাওয়ার ভয়ে এখানে শেষ করতে হলো।

আমরা কি পারি না আমাদের এ সুন্দর জীবনটাকে ইসলামের আলোয় গড়ে তুলতে? আসুন না, আমরা সবাই সবার কল্যাণের চিন্তা করি, কোনো বিষয়ে বাড়াবাড়ির পরিবর্তে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করি। আমরা যদি জীবনের সর্বক্ষেত্রে মধ্যমপন্থার ওপর আমল করে জীবন পরিচালনা করতাম, তাহলে ঝগড়া-বিবাদ আর নৈরাজ্য সংঘটিতই হতো না।
আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে প্রকৃত ইসলামের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে জীবন পরিচালনা করার তৌফিক দান করুন।

লেখক: সম্পাদক, ইত্তেহাদ টাইমস

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
copyright 2020: ittehadtimes24.com
Theme Customized BY MD Maruf Zakir