1. admin@idealmediabd.com : Sultan Mahmud : Sultan Mahmud
  2. abutalharayhan62@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  3. nazimmahmud262@gmail.com : Nazim Mahmud : Nazim Mahmud
  4. tufaelatik@gmail.com : Tufayel Atik : Tufayel Atik
কওমি মাদরাসার শিক্ষকদের স্বল্প বেতন: কী বলছেন তরুণ আলেমরা? - ইত্তেহাদ টাইমস
সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ০৫:৫১ অপরাহ্ন

কওমি মাদরাসার শিক্ষকদের স্বল্প বেতন: কী বলছেন তরুণ আলেমরা?

ইত্তেহাদ টাইমস ডেস্ক
  • প্রকাশটাইম: রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০২২

কওমি মাদরাসা শিক্ষকদের স্বল্প বেতন নিয়ে তরুণ আলেমদের বেশ কয়েকজন ফেসবুকে সরব হয়েছেন। ইতোমধ্যে তাঁদের লেখা ভাইরাল হয়েছে। তাঁরা বেশ কিছু যুক্তি দিয়ে যার যার মতামত পেশ করেছেন। নিম্নে কয়েকজন আলেমের মতামত তুলে ধরা হলো-

মুফতি জিয়াউর রহমান লিখেছেন, “আদীব হুজুরের মাদরাসাতুল মদীনার একজন শিক্ষকের ৪২ হাজার টাকা বেতনের সংবাদ কাল থেকে বেশ ভাইরাল হয়েছে৷ আমার জানামতে শুধু আদীব হুজুরের মাদরাসা নয়, ঢাকার আরো অনেক মাদরাসার শিক্ষকের বেতন এই স্কেলের বা তার চেয়েও বেশি পরিমাণ আছে৷

অনেকে সিলেটের মাদরাসাগুলোর বেতনের দৈন্যদশা নিয়েও কথা তুলছেন৷ অস্বীকারের সুযোগ নেই, যারা সারা দেশের একটু খোঁজখবর রাখেন, তারা অনুভব করতে পারবেন শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি মাদরাসা ছাড়া সিলেটের মাদরাসাগুলোর বেতনের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ৷ বাংলাদেশের মধ্যে সবচে অনুন্নত এলাকা হিসেবে উত্তরবঙ্গকে বিবেচনা করা হয়৷ কিন্তু দেখা গেছে সেই উত্তরবঙ্গের মাদরাসার শিক্ষকদের বেতনের হারও সিলেটের চাইতে বেশি৷ যার কারণে সিলেটের ইলমী অঙ্গন দিনদিন দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছে৷

শুধু তাই নয়, বেতন পকেটখরচ পরিমাণের চাইতেও কম নির্ধারিত হওয়া সত্ত্বেও মাসে মাসে তা আদায় হচ্ছে না৷ মাস শেষে খালি পকেটে নিজ পরিবারের কাছে যাওয়ার চাইতে কষ্টের আর কী হতে পারে! সিলেটের মেধাবীরা বিদেশমুখী হচ্ছেন সবচে বেশি৷ বিদেশ না হলেও ঢাকামুখী তো হচ্ছেনই৷ অবশ্য এর পেছনে শুধু অর্থই কারণ না, মানানসই ইলমী পরিবেশের অভাবও ভালো ভূমিকা রাখছে৷

শিক্ষা বোর্ডগুলো শুধু পরীক্ষা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মাদরাসা ও শিক্ষকদের অভিভাবকের ভূমিকা রাখা অতীব জরুরি৷ মাদরাসা বোর্ডসহ সবাই মিলে আশু পদক্ষেপ না নিলে সিলেটের ইলমী ভবিষ্যত বড়ই অন্ধকার৷”

মুফতি নাজমুল ইসলাম কাসিমি লিখেছেন, অধিকাংশ মাদরাসায়ই টাকার সংকট থেকে মুহতামিমের চিন্তার সংকট বেশি থাকায়; সাধারণ শিক্ষকদের এই বেহাল দশা! একজন শিক্ষকের নূন্যতম বেতন ১৫০০০৳ হওয়া আবশ্যক। বোর্ডগুলোর এ ব্যাপারে সজাগ হতে হবে। আর গাফলতি করা যাবে না। পরে বাটি চালান দিয়েও হাদিসের উস্তাদ পাওয়া যাবে না৷অনেক মেধাবীরাই প্রবাসকে আপন করে নিচ্ছেন!”

তিনি আরো লিখেছেন,”কোনো আকাবির তরমুজের ছাল খেয়েছেন; তা ঠিক। তবে অনেক আকাবির আবার দৈনন্দিন একটা বকরিও খেয়েছেন। কোনো আকাবির সাদেগি জিন্দেগির জন্য তিন মাস জুতো পরেননি; আবার কোনো আকাবির প্রতিনিয়ত রেশমের কাপড়ও পরেছেন! দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে অনেক আকাবির জীবনেও তনখা নেননি। আবার এখনের সব আকাবির পাঞ্জাব ব্যাংক থেকে মাসের ৫ তারিখের আগেই এটিএম দিয়ে তনখা ওঠান। সবাই-ই আমাদের আকাবির।  আমরা তাদেরই অনুসারী; আসাগির…”

মাওলানা ইলিয়াছ মশহুদ লিখেছেন, কওমি মাদরাসার শিক্ষকদের বেতন এবং নিরীহ মুহতামিম সম্প্রদায়কে নিয়ে যে ক্যাচাল শুরু হয়েছে, এটা অনভিপ্রেত না হলেও অসুন্দর। আমার চেনাজানা অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, যেগুলোর মুহতামিমসহ শিক্ষদের বেতন স্কেল দেখলে মাথা হ্যাট হয়ে আসবে। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা, বিরতিহীন একটানা ক্লাস করে মাস শেষে অতি সম্মানের ২২০০ থেকে ৩২টাকার হাদিয়াটাও মেলে না। মাস শেষ হওয়ার পর আরও সপ্তাহখানেক মুহতামিম সাহেবের পিছু পিছু ঘোরে, হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বকুনি-ঝাকুনি খেয়ে পাঁ—-চ শো টাকার একটা নোট ধরিয়ে দিয়ে বলা হয়, ‘খেদমত করতে আইছেন, না টাকা কামাইতে আইছেন? যান, প্ তি মাসে এভাবে ডিস্টার্ভ করতে আসবেন না। সামনের ওয়াজের সময় সব একসঙ্গে পরিশোধ করা হবে।

একটা কিচ্ছা বলি। আমার পরিচিত এক হুজুর। মধ্যবয়সি। একটা মহিলা মাদরাসার মুহাদ্দিস। উনার ৮ মাসের বেতন বকেয়া। হুজুরের বিবি অসুস্থ। বাচ্চা হবে। ডাক্তার দেখানো জরুর। হাতে নেই টাকা। গেলেন মুহতামিম সাহেবের কাছে। সুওয়ালের কোনো জওয়াব নেই। পরদিন আবারও গেলেন। ঘণ্টা কামাই করে। মুহতামিম সাহেব রাগে, ক্রোধে, ক্ষোভে অগ্নিশর্মা হলেন। ক্লাসের সময় না পড়িয়ে তালেবাতদের হকতলফি করছেন বলে শাসালেন। হুজুর তখন কাঁদো কাঁদো গলায় তাঁর অসুবিধার কথা জানালেন। কী পাষাণ দিল, উল্টো চাকরি খেয়ে ফেলার হুমকি দিলেন। তিতা নিম পাতা মনে হুজুর সবকিছু হজম করে যান। দিন শেষে তাঁর টাকার প্রয়োজন। পরদিন আবারও। এভাবে সপ্তাহখানেক পর ১০০০ টাকা হাতে আসে। আরও মজার খবর হচ্ছে, তত দিনে হুজুরের ফুটফুটে একটা ছেলে দুনিয়ার আলোবাতাস দেখে ফেলেছে।”

মুফতি সাঈদ বিন বশির লিখেছেন, “সিলেটের কওমি মাদ্রাসার অবস্থা, নিয়মিত সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ক্লাস। রাতেও ডিউটি। শিক্ষকের বেতন ৪/৫ হাজার টাকা। তাও কয়েক মাসের বাকী। একদিনের ছুটি চাইলে মুহতামিম/নাজিম অনেক কিছু বলতে চায়। বুঝা যায় ৪/৫ হাজার বেতন দিয়ে তারা শিক্ষকের মালিক হয়ে গেছে।

বর্তমানে এক বস্তা চাউলের দাম ৪ হাজার টাকা। শিক্ষক বাকী খরচ করবে কী দিয়ে?”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ইত্তেহাদুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন-এর একটি প্রতিষ্ঠান copyright 2020: ittehadtimes24.com  
Theme Customized BY MD Maruf Zakir