1. admin@idealmediabd.com : Sultan Mahmud : Sultan Mahmud
  2. abutalharayhan62@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  3. nazimmahmud262@gmail.com : Nazim Mahmud : Nazim Mahmud
  4. tufaelatik@gmail.com : Tufayel Atik : Tufayel Atik
গন্তব্য - ইত্তেহাদ টাইমস
মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
৭৫-এ পা রাখলেন শেখ হাসিনা : অকুতোভয় মানসিকতাই যার দেশ গড়ার শক্তি কানাইঘাট দিঘীরপাড় ইউপিতে ভিজিটির চাল বিতরণ কানাইঘাটে ৫শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা : প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন নবির সুন্নাহ দাড়ি কাটায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তা লে বা ন শেখ হাসিনা একমাত্র চরিত্রবান : ওবায়দুল কাদের সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা : শিশুসহ নিহত ৩ প্রতিদিন কমলা ও স্ট্রবেরি খাওয়ার উপকারিতা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ, ৩ সংবাদকর্মীসহ আহত ১৩ আকর্ষণীয় বেতনে গুরুত্বপূর্ণ ৬ পদে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দেবে দারুর রাশাদ মাদরাসা মক্তবে যাওয়ার পথে ট্রাকচাপায় মাদ্রাসাছাত্র নিহত

গন্তব্য

তরিকুল ইসলাম
  • প্রকাশটাইম: শনিবার, ৭ আগস্ট, ২০২১

‘এতো হুজুরগিরি দেখাইলে তোমার পোলারেই কামাই কইরা আনতে কও’ ওইদিন পাশের রুমে আব্বা আম্মার সঙ্গে চিল্লাচ্ছিল, কথাটি কানে আসতেই বুকটা যেন দুমড়ে-মুচড়ে গেল।আব্বাকে শুধু বলেছিলাম যে ব্যাংকে রাখা সুদের টাকা দিয়ে পরিবারের ভরণ-পোষণ যাতে না চালায়,বিকল্প আরেকটা ব্যবস্থা যাতে করে।একটু জোর গলায় বলেছিলাম সত্য,তবে ভুল কিছু তো বলিনি।সদ্য মেডিকেলে ভর্তি হওয়া আমার পক্ষে কীভাবে পরিবারের খরচ যোগান দেওয়া সম্ভব।পড়াশুনার চাপে টিউশনি করাতেও কষ্ট হয়ে যায়।কোনোমতে নিজের খরচটা চলে আরকি।আজকে কবরের দিকে আসার পথে অতীতের কথাগুলো মনে পড়ছে।গতকাল ভাবতেও পারি নি যে আজ আমকে কবরস্থানে আসতে হবে।নিঃশব্দে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম ওইদিন,একেবারে অসহায় লাগছিল নিজেকে। প্রতিবন্ধকতা যেন তার আঁচল দিয়ে আমাকে আগলে রেখেছে, তাকে আপন করে নেওয়া ছাড়া ভিন্ন কোনো পন্থা আমার কাছে নেই। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের দীন বিমুখতা,চারপাশে হাজারো ফেতনা,ক্লাসে সহশিক্ষা,উম্মার বিভেদ ও বিভক্তি।সাথে মরার উপর খরার ঘা হয়ে কাঁধে চেপে আছে নিজের পাপের বোঝা।যতদিনই ভাল থাকি না কেন,পদস্খলন তো হয় ই মাঝে মাঝে।মেডিকেলে সহপাঠীদের ফেতনার পাশাপাশি ম্যাডামদের ফেতনাও প্রবল।ম্যাডামরা অধিকাংশই মাঝ বয়সি।হুজুর বিদ্বেষী ম্যাডামও আছে অনেক।একবার এক কার্ডের ভাইবায় কয়েকটা প্রশ্ন না পারায় ঠাস করে ম্যাডাম বলে ফেললেন—

—হুজুর!মাদ্রাসায় ভর্তি হতা,মেডিকেলে আসলা কেন?

কতক মাঝবয়সী  ম্যাডাম আবার মায়ের(!) মত অভিমান করে বলে,
—আমি তো তোমার মায়ের মতই।আমার দিকে তাকাতে তো তোমার কোনো সমস্যা নেই।

দীন সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা কোন পর্যায়ে হলে এইরকম কথা তারা বলতে পারে ভাবা যায়!কিন্তু পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়া ছাড়া আমার আর কিছুই করার ছিল না।আমার পরিবর্তনটা হয়েছিল গত বছর, মসজিদের তালিমের হালকায় বসে।কিতাবের  তালিম হচ্ছিল।ওলামায়ে কেরাম বলেন, মৃত্যুর ব্যাপারে চার শ্রেণীর লোক আছে।১ম প্রকার,এরা মৃত্যুকে চায় না।এরা হল কাফের।এরা দুনিয়ায় বেশিদিন থেকে ভোগবিলাস করতে চায়।২য় প্রকার,এরাও মৃত্যুকে চায় না।কারণ আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর মত আমল তাদের নেই।এরা মুমিন।তবে এদের নিজের ইমান আমল সংশোধন এর চেষ্টা করে যেতে হবে,অন্যথায় এরাও প্রথম শ্রেণীর মতই গন্য হবে।৩য় প্রকার,এরা আল্লাহর ওলী,এরা মৃত্যুকে চায়।দুনিয়া ঝামেলা থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর দীদার লাভ করতে চায়।৪র্থ প্রকার,এরা দুনিয়াতে থেকেই আল্লাহর সাথে সম্পর্ক এমন স্তরে নিয়ে গেছে যে মৃত্যু হোক বা জীবিত থাকুক,তাদের সাথে আল্লাহর সম্পর্কের তেমন ফারাক হয় না।

কথাগুলো আমার দিলে খুব লেগেছিল,আমি ভেবে দেখলাম আমি ২য় প্রকারের।আবার নিজের সংশোধন এর চেষ্টাও করছি না।তাহলে আবার ১ম প্রকারের লোকের মধ্যেই পড়ি।তার মানে এখন মারা গেলে…!নিজের পরিণতির কথা ভাবতে ভাবতে বাড়ি এলাম।বাসায় এসে খবরে দেখলাম নেপালে বিধ্বস্ত বাংলাদশের বিমানে ১২ জন নেপালি মেডিকেল শিক্ষার্থী মারা গেছে।আচমকা ভয় আমাকে আঁকড়ে ধরল,আমারও তো মৃত্যু হতে পারে যেকোন সময়।তৎক্ষনাৎ মাকে বললাম আমি দাড়ি রেখে দিব,আর সুন্নতি লেবাস পরব।আমি ওইদিন রাতেই বাসার পাশের টেইলার্সে কাপড় কিনে পাঞ্জাবি বানাতে দিয়ে আসলাম।তখন তো আর ভাবি নি যে কী হবে আমার নীল আঁধারের বিচরণের,কী হবে আমার সেল্ফ স্যাটিকসফেকশন এর আসক্তির।কিভাবে ছাড়ব আর্টসেল,শুন্য আর শিরোনামহীনের সুরের মায়া।কি হবে আমার জন্যে অপেক্ষা করতে থাকা এক ষোড়শীর ছায়ার।শুধু মাথাই এটাই ঘুরছিল,পরিবর্তন দরকার,এবার তা যেভাবেই হোক।
অবৈধ প্রেমকে বৈধ করার কোনো উপায় আমার হাতে ছিল না।পরিবারে আয়ের বড় একটা উৎস ছিল হারাম।আমি নিজেও উপার্জনক্ষম নই।বাধ্য হয়ে সম্পর্কের ইতি টানলাম।তবে পুরোপুরি যোগাযোগ বন্ধ হতে কিছুটা সময় লাগল।তবে আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম।কিন্তু পরিবর্তনের শুরুর দিকে আমি মাঝে মাঝেই গান শুনে ফেলতাম।কিংবা কখনো নীল জগতে ঢুকে পড়তাম।এরপর সেল্ফ স্যাটিসফেকশন এর পালা শেষ হতেই আমার উপর নেমে আসত রাজ্যের হতাশা।

মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পর দাওয়াতের মেহনতের সঙ্গে ভালভাবে জোড়লাম।আগে একেবারেই টুকটাক করতাম,মাঝে মাঝে ৩ দিনের জন্যে যেতাম আর তালিমে বসতাম আরকি।দীন পালনের মধ্যে আমার অবিচলতা আসতে লাগলো।মানুষকে আল্লাহর কথা বলতে বলতে নিজের দিলের মধ্যে সেগুলো শক্তভাবে বসতে লাগল।দীনের উপর অটল থাকার জজবা বজায় থাকল।সত্যিই খুব মোবারক মেহনত এটা।আমি হক্কানি আলেমদের সোহবতে যাওয়া শুরু করলাম,এটাই ছিল অন্যতম যুগান্তকারী একটা পদক্ষেপ।ফেসবুক কিংবা ইউটিউবকে কখনো আমি দীন শিখার প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নেই নি।আমি একজন আলেমকে নিজের একান্ত কথা গুলো বলার জন্যে বাছাই করে নিলাম এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী চলতে লাগলাম।অল্প কয়েকদিনের ভিতরেই অভূতপূর্ব পরিবর্তন আমি নিজের মধ্যে লক্ষ্য করলাম।উনি আমাকে প্রচুর বই দিতেন, উনার হাত ধরেই আমার বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠে।

নজরের হেফাজতের উপর আমি বিশেষ জোর দিয়েছিলাম।হারাম জিনিসের প্রতি দৃষ্টিপাতের তুলনা তো পিপাসার্ত অবস্থায় সমুদ্রের পানি পান করার মত,যতই পান করবে,পিপাসা ততই বাড়বে।নজর হল শয়তানের বিষাক্ত তীর,নজরের হেফাজত করলে খারাপ চিন্তা পরিহার করাও সহজ হয়।কারণ খারাপ চিন্তা থেকেই জন্ম নেয়  আসক্তি,আসক্তি থেকেই ওই কজটি করার ইচ্ছা জাগে মানুষের মনে।ইচ্ছা ধীরে ধীরে রূপ নেয় দৃঢ় সংকল্পে।দৃঢ় সংকল্প পূর্ণতা পায় বাস্তবে কাজটি করে ফেলার মাধ্যমে।এটা একটা চেইন রিয়েকশনের মত।তাই যদি কেউ খারপা চিন্তা পরিহার করে তবে তা ওইখানে শেষ হয়ে যায়।খারাপ চিন্তা করতে থাকলে তা আসক্তিতে রুপ নেয়।ওইখানেই কেউ যদি থেমে যায় তবে আর আগায় না।আসক্তি পর না থামলে ইচ্ছা জাগে কাজটি করার।ওইখানে থামলেও আর সামনে আগায় না।তখনো না থামলে সংকল্প ও শেষে বাস্তবে তা হতে যায়।তাই চেইনের যত আগে সম্ভব তা বন্ধ করে হবে,যত দেরি হয়,ফিরে আসা ততই কঠিন।তাই শয়তান যখনই আমাকে খারাপ চিন্তার কুমন্ত্রণা দিত,তখনই ভাল চিন্তা দ্বারা সেটাকে আমি প্রতিহত করতাম।ফলে সেটা আর সামনে এগুতোই না।গান শুনার অভ্যাস বদলাতে ভাল ভাল নাশীদ শুনতে লাগলাম।পন্থাটা ভালই কাজে দিল।পরিবারের হারাম উপার্জন বন্ধ করার আপাতত কোনো উপায় আমার হাতে নেই।তাই ঠাণ্ডা মাথায় দাওয়াত চালিয়ে যেতে লাগলাম।প্রথম দিকে দাওয়াত দিতে গিয়ে আমি উত্তেজিত হয়ে পড়তাম।বেশি কঠোর ভাষা ব্যবহার করতাম।কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।কাউকে জোর খাটিয়ে একসঙ্গে সব অন্যায় ছেড়ে দেতে বললে হিতে বিপরীত  হয়ে সব ন্যায়ই সে ছেড়ে দিবে।তাই এবার নববী মানহাজ অনু্যায়ী দাওয়াত দিতে লাগলাম।অসৎ বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গ ত্যাগ করলাম। অসৎ সঙ্গ থেকে একা থাকা ভাল,একা থাকা থেকে সৎ সঙ্গে থাকা ভাল।তাই দীনদারদের ব্যাক্তি অথবা ইসলামী বই-এই দুই সঙ্গ নিয়ে জীবন চালাতে লাগলাম।দৈনিক নির্জনে বসে মনযোগের সাথে কিছু সময় জিকির করতাম,এটাও অনেক উপকারে আসল। ফজরের পর কিছু সময় কোরআন তেলাওয়াত আর ইশরাক পরার অভ্যাস করলাম।দৈনিক একটা লম্বা সময় মেডিকেলে গুনাহর পরিবেশে কাটালেও আল্লাহর রহমতে একটা ভাল অবস্থায় দিন কাটাতে লাগলাম। গান কিংবা নীল জগত এর কথা মাথাই আসত না একেবারে।কবরস্থানের ভিতরে এসে গেছি আমি,এখানে আসলে সবারই মন কিছুটা হলেও নরম হয়।

গতকাল আমার চরম পদস্খলন হয়েছে।বন্ধে বাসায় এসেছি কয়েকদিন হল।কয়েকদিন ধরেই আমলের বিশেষ ঘাটতি হচ্ছিল,নজরের হেফাজতও ঠিকমত হচ্ছিল না।গতকাল রাতে কেমন জানি মনটা একটু বেশিই বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছিল।বন্ধুদের সাথে দেখা করতে গিয়েই বড় ভুলটা হয়েছে।ওরা মেয়েদের নিয়ে রসালো আলোচনা করছিল, গিটার দিয়ে গান গাচ্ছিল।আমি অল্প সময় অবস্থান করে চলে আসলেও কথাগুলো আমার কানে বাজছিল।গানের আওয়াজ মনকে বিষণ্ণ করে তুলছিল।অনেক চেষ্টার পরও আমি হেরে গেলাম,আমি অল্প করে গান শুনে ফেললাম। গান শুনে মন আরো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। এরপর হয়ে গেল আরো বড় ভুল!নীল জগতে বিচরণ শেষে সেলফ স্যাটিসফেকশন।
মাটির সাথে মিশে যেতে মনে চাইছিল একেবারে।কি করলাম আমি!আমি ভেবেছিলাম নফসের উপর আমার নিয়ন্ত্রণ এসে গেছে।কিন্তু আমি ভুল ছিলাম,নফস যে বিশ্বাসঘাতক!মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যে একে  বশে রাখার চেষ্টা করে যেতে হবে।হায়!কি করলাম আমি!দেরি না করে তাড়াতাড়ি গোসলে চলে গেলাম।কুলি করতে গিয়ে পানি খেয়ে ফেলেছি,ভয় লাগছে অনেক।পাছে গোসল যদি ঠিকমত না হয়।নাক জলছিল বেশি পানি দেওয়াতে।ভয়ে আমার শরীর অসাড় হয়ে আসছে।কী হবে এখন যদি মরে যাই?

সিজদায় পড়ে খুব কেঁদেছিলাম,খুব।অনেক রাত তখন।একটা লম্বা সময় ভাল থাকার পর এই পদস্খলন আমি মেনে নিতে পারছিলাম না।আয় আল্লাহ!আমি জুলুম করেছি আমার নফসের উপর।আপনি আমাকে মাফ করে দিন।আপনি মাফ না করলে নিশ্চয়ই আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।শরীরে কম্পন হচ্ছিল,আর আমার কান্না বেড়েই চলছিল।নামাজ শেষ করে জায়নামাজেই বসেছিলাম আমি।শরীরটা অদ্ভুত ধরণের খারাপ লাগছিল।এই রকম খারাপ আগে কখনো লাগে নি।কেমন জানি ভয়ও লাগছিল।দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে ধীরে ধীরে।মা অন্য ঘরে ঘুমাচ্ছে,উঠে যে ডাক দিব সেই শক্তিও পাচ্ছিলাম না।ভয় হচ্ছিল,আল্লাহ কী মাফ করেছেন আমায়?আবার আশাও জাগছে মনে,তওবা তো দিল থেকেই করেছি।নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা কবুলকারী।

নিঃশ্বাস খাটো হয়ে আসছিল,ঘরে কিছু আগন্তুকের উপস্থিতিই যেন আমাকে বুঝিয়ে দিল কি হতে চলেছে সামনে।মাথার দিকটা থেকে মাটি দেওয়া হচ্ছে আমার উপর।কিছুক্ষণ পরই হয়ত মুনকার নাকির আসবে।হায়!গতকাল যদি আমি পাপটা না করতাম।এখন আমি কি জবাব দিব আল্লাহর সামনে।মৃত্যুটা যে সত্যি সত্যিই এত তড়াতাড়ি আসবে ভাবতেও পারি নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ইত্তেহাদুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন-এর একটি প্রতিষ্ঠান copyright 2020: ittehadtimes24.com  
Theme Customized BY MD Maruf Zakir