1. admin@idealmediabd.com : Sultan Mahmud : Sultan Mahmud
গল্প 'ভাগ্য' পর্ব-২ - ইত্তেহাদ টাইমস
শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার অর্জনে সরকার বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে : সিলেট বিভাগীয় কমিশনার শনিবার মাওলানা আব্দুল মতীন ফাউন্ডেশন সিলেটের শীতবস্ত্র বিতরণ মতবিরোধ পরিহার করে মুসলিমদের এক হওয়ার ডাক দিলেন এরদোগান ট্রাম্প সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন, দায় তাকেই নিতে হবে: নির্বাচনী কর্মকর্তা দেশে করোনাভাইরাসে আরও ৩৮ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২১৯৮ বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান এবার উন্মুক্ত স্থানে নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করোনায় দেশে গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৩১ মৃত্যু, শনাক্ত ২২৯৩ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর রোগমুক্তি কামনায় গোয়াইনঘাট গ্রাম পুলিশের মিলাদ মাহফিল সাঈদুর রহমান লিটনের কবিতা “ফুলকি” দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাখাসসুসের মাদরাসা প্রতিষ্ঠা জরুরি : আল্লামা আলিমুদ্দিন দুর্লভপুরী

গল্প ‘ভাগ্য’ পর্ব-২

মাওলানা হুসাইন আহমদ কামাল
  • প্রকাশটাইম: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২০

হুসাইন কামাল

রফিকের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো! এ কী! এমন হচ্ছে কেন!? আমি মজদুরি করে টাকা পাবো না!? বাড়ীতে যেতে পারবো না! এ হয়না। এ ভারি অন্যায়।রেস্টুরেন্টে পরিচিত একজন আছে,ওর কাছে যেতে হবে।দেখি ম্যানেজ করা যায় কিনা। মজনুর কাছে গেলো।সব খুলে বললো। মজনু হলো তার পরিচিত ।বাড়ী সুনামগঞ্জ শহর থেকে সত্তর মাইল পশ্চিম উত্তরে। রফিক তার মায়ের কাছে শুনেছে ওদিকে কয়লার খনি আছে। ইন্ডিয়ার বর্ডার আছে। চেকপয়েন্ট রয়েছে। ভারত থেকে কয়লা আসে। বাংলাদেশের লোকেরা মজদুরি করে।রফিকেরও একবার মন চাইছিলো ওখানে যাবার। টাকা রোজগার করার।কিন্তু সাহস করতে পারেনি। শহরতলীর লোক বড় শহরে বেশি টাকা পাবার আশায় পাড়ি জমিয়েছে সিলেট শহরে!

আজ সে আশারও গুড়ে বালি হয়ে গেলো! মজনু রফিককে বললো, শুন রফিক, এ রেস্টুরেন্টের মালিক সিলেটি লোক নয়। তার বাড়ী অন্য জেলায়। এখানে তার বাপ চাকরি করতো।বাপের চাকরির সুবাদে তারা এ শহরে অনেক সম্পত্তির মালিক হয়ে যায়। সরকারি চাকরিজীবীদের অনেক টাকা। বুঝলে? তার বাপও অনেক টাকা কামাইছে। এখন সিলেটের আরো দশজন বড়লোকের মাঝে সেও একজন।তাই শুন,ভালোয় ভালোয় বেতনটা উদ্ধার কর।সামনের মাস পর্যন্ত অপেক্ষা কর।মাথা গরম করলে চলবেনা।যা, এখন কাজে মন দে।

মজনুর কথা মতো রফিক একমাস অপেক্ষা করলো। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার। কথামতো টাকা পেলোনা রফিক! বেতনের অর্ধেক টাকা দিয়ে রেস্টুরেন্টের মালিক বললো চারদিনের ছুটি দেয়া গেলো। বাকি টাকা পরে পাবে।তোদেরকে বিশ্বাস করা যায়না।সারা বেতন নিয়ে যদি আর না আসিস। তাহলে কী হবে? তার গ্যারান্টি কে দেবে? যাও তাড়াতাড়ি এসো।

রফিক ওইদিন বি আর টিসি বাসে চড়ে বাড়ীতে চলে এলো। এসে দেখে তার মায়ের শরীর একেবারে ভেঙে গেছে। এক তো উপোস তার উপর অসুখ! দুইয়ে মিলে তার মায়ের শরীরের করুণ অবস্থা। লেট না করে তাড়াতাড়ি শহরের সরকারী হাসপাতালে নিয়ে গেলো। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তার মাকে হাসপাতালে  ভর্তি করে দিলো। দশদিনে রফিকের মায়ের শরীর সুস্থ হলো।

রফিক চার মাসের বেতনের অর্ধেক টাকা সম্পুর্ণ খরচ করেও আরো কিছু টাকা ঋণ করতে হলো।কারণ আজকাল সরকারী হাসপাতাল গুলোর যে অবস্থা তা একেবারেই খসাইয়ের মতো বললেও কম হবে! যদিও নামে সরকারী কিন্তু কাজের বেলায় মনে হয় সম্পুর্ণ প্রাইভেট।

আজ রফিকের ছুটির তেরো নম্বর দিন চলছে।ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে বাসের টিকেট কেটে শিমুল গাছের নীচে অপেক্ষা করছে বাসের। শহর থেকে বাস এলে সে বাসে চড়ে সিলেট শহরে আসতে হবে। এখানেও ভোগান্তির শেষ নেই!

সিলেট পৌঁছুতে দুটো বেজে গেলো। রেস্টুরেন্টে ঢুকতেই মজনু এসে বললো তুই কই ছিলে এতোদিন। বস তোর চাকরি নট করেছে। রফিক বললো, কী? মজনু বললো হো সত্যি বলছি। তোকে আর চাকরিতে রাখবেনা। তোর যায়গায় আরেকজনকে রেখে দিয়েছে।

শেষমেশ রফিক খালি হাতে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে এলো। ঠিক বের হলো না,বরং জোর করে বের করে দেয়া হলো।রাত হয়ে এলো এখনও কোন কাজ পেলোনা।আজ মনে হচ্ছে তাকে রাস্তায় রাস্তায় হেটেই রাত পোহাতে হবে।কী ভেবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের প্রাচীর ঘেঁষে বসে পড়লো। রাত তখন দুইটা বাজে। মশার যন্ত্রণায় বসেও থাকতে পারছেনা! পায়চারি করতে লাগলো। মিনিট পাঁচেক হাঁটার পর হঠাৎ হুইশেলের আওয়াজ শুনতে পেলো।সাথে সাথে মোটরবাইকের আওয়াজও শুনলো। কিছু বুঝবার আগেই রফিকের সামনে মোটরসাইকেল আটকিয়ে তার হাতে কালো ধরণের কিছু একটা পেকেট ধরিয়ে এক লাফে বাউন্ডারি পাড়ি দিয়ে অপর প্রান্তে চলে গেলো। কিংকর্তব্যবিমুঢ় রফিক হতভম্ব হয়ে একবার সামনে আরেকবার পিছনে তাকাতে লাগলো।কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেট্রোপুলিশ এসে রফিককে ধরে ফেললো।

আজ রফিকের স্বপ্নগুলো হাজতের চার দেয়ালের ঝুপড়িতে বন্দী। কোরবানীর চার ঈদ চলে গেছে। জেল হাজতে রফিক বন্দীজীবন কাটাচ্ছে। রফিকের উপর পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র মামলা হয়েছে।সাথে হেরোইন ব্যাবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ এনে পৃথকভাবে আরেকটি মামলা করেছে পুলিশ।

রফিক হয়তো এখন আর স্বপ্ন দেখেনা। নতুবা নতুন কোন স্বপ্ন দেখতেও পারে। সে স্বপ্নে নিশ্চয় এ সমাজ ব্যবস্থা থাকবেনা। যে সমাজে মানুষের কাছে মানুষ হতে হয় নিগৃহীত।

লেখক: আলেম, শিক্ষক ও গল্পকার।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
copyright 2020: ittehadtimes24.com
Theme Customized BY MD Maruf Zakir