1. admin@idealmediabd.com : Sultan Mahmud : Sultan Mahmud
গল্প: সংসার নামক জেল - ইত্তেহাদ টাইমস
বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
মতবিরোধ পরিহার করে মুসলিমদের এক হওয়ার ডাক দিলেন এরদোগান ট্রাম্প সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন, দায় তাকেই নিতে হবে: নির্বাচনী কর্মকর্তা দেশে করোনাভাইরাসে আরও ৩৮ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২১৯৮ বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান এবার উন্মুক্ত স্থানে নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করোনায় দেশে গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৩১ মৃত্যু, শনাক্ত ২২৯৩ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর রোগমুক্তি কামনায় গোয়াইনঘাট গ্রাম পুলিশের মিলাদ মাহফিল সাঈদুর রহমান লিটনের কবিতা “ফুলকি” দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাখাসসুসের মাদরাসা প্রতিষ্ঠা জরুরি : আল্লামা আলিমুদ্দিন দুর্লভপুরী মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে কঠোর হচ্ছে সরকার নাইজেরিয়ায় নামাজের সময় মসজিদে সন্ত্রাসীদের হামলা; নিহত ৫

গল্প: সংসার নামক জেল

আর আই রাতুল
  • প্রকাশটাইম: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২০

আর আই রাতুল

শীতের সকাল।কুয়াশার সাদা চাদরে ঢেকে পড়ে আলাদিনগর নামের ছোট্ট গ্রামটি।গাছের পাতাগুলো নিঃসাড়ভাবে বসে থাকে চুপটি মেরে।ঘাসের উপর চোখে পড়ে শিশির কণা।কাছের কোনকিছু দেখা বড় দায়।কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে আলাদিনগরটা অস্পষ্ট হয়ে গেছে।
অজানা কুয়াশার ভেতর হতে,হঠাৎ সাইকেলের ক্রিং ক্রিং শব্দ বেজে উঠলো।চিত্র খুব বেশি স্পষ্ট না হলেও সামান্য বোঝা যায়,৫০ বছর বয়সী ফখরুল স্যার পুরোনো বাংলা সাইকেলটা নিয়ে ধীরে ধীরে ক্রমশও এগিয়ে আসছেন।যত কাছে আসছে,ততই স্পষ্ট হয় চিত্র,কান থেকে শুরু করে,মাথার উপর দিয়ে গলার নিচ অবধি মাফলার।
আলাদিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফখরুল স্যার।ঝড়-বৃষ্টি,রোদ-গরম কিংবা শীত,কিছুই ফখরুল স্যারকে তার বাড়ি থেকে ১০মাইল পথ পাড়ি দিয়ে সবার আগে স্কুলে পৌছানো ঢেকাতে পারে না।কী দপ্তরী,কি শিক্ষার্থী, কী শিক্ষক,কেউই না।কী প্রাণশক্তি ওনার!রোদে ঘেমে,বৃষ্টিতে ভিজে কাঁদা মাখিয়ে,শীতে কেঁপে কেঁপে হলেও ঠিকই সবার আগে পৌছে যান তিনি।
সকালে স্কুলে এসেই অফিস রুমটা খুলবেন।তারপর একে একে সব শ্রেণীকক্ষ। এরপর ঝাড়ু দিয়ে পুরো স্কুলটা ঝাড় দিবেন একা হাতে।এই স্কুলটাকে তিনি নিজ হাতে আগলে রেখেছেন।অবাক করার বিষয়,এই স্কুলে কোন ঝাড়ুদার কিংবা অন্যান্য কাজ করার লোক নেই।সব কাজ প্রধান শিক্ষক একাই করেন।
আধ-পাকা চুল-দাড়িওয়ালা মানুষটার বয়স খুব বেশি না হলেও দেখতে অনেক বয়স্ক লাগে।নাকি তিনি অভিজ্ঞতায় ১০০ বছরেরও বড়!জানা নেই।
কোন এক অদ্ভুদ কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শিক্ষক পর্যন্ত সবাই ওনাকে ভয় করেন।কিন্তু তেমন কোনো কারণ আছে বলে ধারণা নেই কারোরই।
উনি শুধু এই স্কুলকে তার জীবন ভেবে চলেছেন।এই স্কুল ওনার পরিশ্রমে গড়ে তোলা ফসল।এই স্কুলের সাথে ওনার ৪০এরও অধিক বছর ধরে পরিচয়।সেই ৬বছর বয়স থেকেই।
এই স্কুলকে সময় দিতে গিয়ে তিনি ভুলে গেছেন নিজেকে,নিজের ভবিষ্যৎ কে।বিয়ে করেন নি,সংসার নেই,খরচ নেই।নিজের ভাঙা কুটিরে পড়ে দু মুঠো ভাত নিজেই রেঁধে খান, কিংবা শরীরে না কুলালে না খেয়েই পড়ে থাকেন।এই জীবন নিয়ে ওনার কোনো অভিযোগ নেই।নেই কোনো খেদও।উনি মনে করেন এটাই হচ্ছে স্বাধীনতা।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ছোট ছিলেন বলে দেশের স্বাধীনতা আনতে পারেন নি তিনি।এই নিয়ে ওনার দুঃখেরও অবকাশ নেই।যদি আরও বছর পাঁচেক আগে জন্মাতেন,তবে ঠিকই যুদ্ধ করতে পারতেন।তবে তিনি নিজের স্বাধীনতা আনতে পেরেছেন এবং সারাজীবন এ স্বাধীনতা রক্ষা করতে তিনি সবকিছু করতে প্রস্তুত।
উনি মনে করেন,বিয়ে মানেই পরাধীনতা।সংসার নামক জেলে নিজেকে বন্দি করা।নিজের জীবনে স্বাধীনতা আনতে হলে বিয়ের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।কারণ সংসার নামক জেলে একবার আবদ্ধ হলেই বিপদ,সারাজীবনের কারাদণ্ড!
বিয়ে না করায় স্যারকে অনেকে দায়িত্বহীন মনে করেন।কিন্তু দয়য়িত্ব কী জিনিস ফখরুল স্যার খুব ভালো করেই জানেন।এবং বেশিরভাগ গ্রামবাসী মনে করেন দায়িত্ব এড়ানো লোক ফখরুল স্যার নয়,বরং অন্যের দায়িত্ব আপনাআপনি নিজের ঘাড়ে তুলে নেওয়ার মতো লোক তিনি।
ওনাকে নিয়ে দোকানের বেঞ্চিতে বসে চা খেতে খেতে অনেককেই আলোচনা করতে দেখা যায়।কেউ বা করে ঠাট্টা-উপহাস কিংবা সমালোচনা।
উনার কর্ণ অবধি যে এসব যায় না,সে কথা মেকি।যায়,কিন্তু তিনি শুনেও না শোনার ভান করেন।অভিনয় করেন।জগত তো আসলে অভিনয়ক্ষেত্রই!
ইদানীং ফখরুল স্যারকে চিন্তিত মনে হয়,শঙ্কিত লাগে।আর সেই শঙ্কার কারণ মৃত্যু।মৃত্যু যে কঠিন পরাজয়,তা অস্বীকার করার উপায় মানবকূলের জানার অগোচরে।শিউরে উঠে তিনি।
তিনি অধিক ধর্মে-কর্মে ঝুঁকে পড়েছেন।তবে তাই বলে উনার দায়িত্বে কিন্তু মোটেই খাদ থাকে না।
বেশি ধর্ম-কর্ম করতে গিয়ে উনি একটি ঝামেলায় পড়ে গেলেন।আর তা হচ্ছে বিয়ে।ধর্মানুসারে বিয়ে করা ফরয।অর্থাৎ করতেই হবে,বাধ্যগত।ইসলামের অন্যতম নবী ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)ও বিয়ে করেছেন।
এখন তিনি কী করবেন?কঠিন একটা সিদ্ধান্ত উনাকে নিতেই হবে।উনি সারারাত ভেবে শেষ মেষ সিদ্ধান্ত নিলেন,উনি বিয়ে করবেন।জগতের কারাগারে বন্দি হকে অসুবিধা কী?উনি তো পরকালে স্বাধীনতা পাবেন।সে অগাধ স্বাধীনতার চেয়ে জগতের তুচ্ছ স্বাধীনতা তুলনাহীন।
ফখরুল স্যারকে এক নামে সবাই চেনেন।তাই বিয়ের জন্য বেশি বেগ পেতে হলো না মুন্সি কাজির।
সানাই বাজলো,ঘর সাজলো,লাল টুকটুক কমবয়সী বউ এলো।ঘটনা রটিয়ে গেলো এ গ্রাম থেকে দশ গ্রামে,শহরে পৌছাতেও দেরী হলো না।
বিয়ের একমাসের মধ্যেই বিশাল পরিবর্তন ঘটলো ফখরুল স্যারের।উনার আগের জীবন নিয়ে অভিযোগ শুরু করলেন নিজেই।
ভাঙা ছনের ঘরখানা ভেঙ্গে উঠলো পাকা দালান।স্কুলে রাখা হলো ঝাড়ুদার ও অন্যান্য কাজ করার কর্মী।
ক্রমশও অলস হতে থাকলেন ফখরুল স্যার।বছর যেতেই একটা মেয়ে সন্তানের বাবা হয়ে গেলেন,তিনি।ফখরুল স্যার এখন দায়িত্ব এড়াতে সর্বদা প্রস্তুত।নিজের দায়িত্বটুকু পালনেও আলস্যভাব আসে,শত চেষ্টার পরও আসে।
ফখরুল স্যারও অবশেষে নিজের পরাজয় মেনে,ঢুকে গেলেন সংসার নামক জেলে,সারাজীবনের জন্য।নিজের স্বাধীনতা রক্ষা করতে ব্যর্থ হলেন তো সেই কবেই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
copyright 2020: ittehadtimes24.com
Theme Customized BY MD Maruf Zakir