1. admin@idealmediabd.com : Sultan Mahmud : Sultan Mahmud
ঘুরে এলাম উলামা নগরী; কানাইঘাটের তালবাড়ী - ইত্তেহাদ টাইমস
বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
মতবিরোধ পরিহার করে মুসলিমদের এক হওয়ার ডাক দিলেন এরদোগান ট্রাম্প সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন, দায় তাকেই নিতে হবে: নির্বাচনী কর্মকর্তা দেশে করোনাভাইরাসে আরও ৩৮ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২১৯৮ বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান এবার উন্মুক্ত স্থানে নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করোনায় দেশে গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৩১ মৃত্যু, শনাক্ত ২২৯৩ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর রোগমুক্তি কামনায় গোয়াইনঘাট গ্রাম পুলিশের মিলাদ মাহফিল সাঈদুর রহমান লিটনের কবিতা “ফুলকি” দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাখাসসুসের মাদরাসা প্রতিষ্ঠা জরুরি : আল্লামা আলিমুদ্দিন দুর্লভপুরী মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে কঠোর হচ্ছে সরকার নাইজেরিয়ায় নামাজের সময় মসজিদে সন্ত্রাসীদের হামলা; নিহত ৫

ঘুরে এলাম উলামা নগরী; কানাইঘাটের তালবাড়ী

আবদুল্লাহ বিন ইসমাঈল
  • প্রকাশটাইম: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০

সিলেট জেলার কানাইঘাটের রাজাগঞ্জ হলো বহু জ্ঞানী-গুনী, ওলামা-মাশায়েখ, মুহাক্কিক- মুদাক্কিক, বিজ্ঞ মুফতি, প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিস, দক্ষ কলমসৈনিকের জন্মভূমি।

এছাড়াও শাইখুল ইসলাম সায়্যিদ হুসাইন আহমদ রাহিমাহুল্লাহ ও সদরে জমিয়ত আল্লামা আবদুল করীম শাইখে কৌড়িয়া রাহিমাহুমাল্লাহ সহ বহু বুজুর্গদের দীর্ঘ স্মৃতিধন্য রাজাগঞ্জের মাটি।

বর্তমানেও এখানে আছেন প্রবীন ও নবীন অনেক আলেম, মুহাদ্দিস, মুফতি, লেখক।

গত ৪ঠা আগস্ট মঙ্গলবার কানাইঘাটে তরুণ আলেমদের মতবিনিময় শেষে মুহতারাম মাওলানা আতাউল কারীম মাকসুদ ও মুফতি রেজাউল কারীম আবরার ভাই পরদিন বুধবার তাঁদের বাড়িতে যাওয়ার দাওয়াত দিলেন অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে আবদুল আযিয মাহবুব ভাই, তাহের ভাই ও আমাকে।

আন্তরিক এই দাওয়াত রক্ষার্থে আমরা ৫ আগস্ট সাড়ে দশটার সময় কানাইঘাট থেকে রওয়ানা হলাম রাজাগঞ্জ তালবাড়ীর উদ্দেশ্যে।

আমাদের কাফেলায় ছিলেন মারকাযুদদাওয়া আল ইসলামীয়া ঢাকার দারুল ইফতায় কর্মরত মুফতি তাহের বিন মাহমুদ হাফিযাহুল্লাহ ও শাইখ জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকার উলুমুল হাদীস বিভাগের সহকারী মুশরিফ মুফতি আবদুল আজীজ মাহবুব হাফিযাহুল্লাহ। আর আমি অধম সহ দাওয়াতপ্রাপ্ত তিন জন-ই ছিলাম।

ঘড়ির কাঁটা যখন ১২টা ছুঁই ছুঁই। তখন পৌঁছলাম তালবাড়ী মসজিদে। মসজিদের পাশে শুয়ে আছেন শাইখ আবদুল্লাহ হরিপুরী, শাইখে যাত্রাবাড়ী, আল্লামা ওলীপুরী, মাওলানা উবায়দুর রাহমান খান নদভী, সহ হাজারো আলেমের উস্তাদ, শত শত মুহাদ্দিসের প্রিয় শাইখ, মাদানী নগর, ঢালকানগর, জামেয়া দরগাহ জমিয়া ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জ’র শাইখুল হাদীস, আল্লামা ইউসুফ বানুরী রাহিমাহুল্লাহর খাস শাগরিদ, শাইখুল মাশায়িখ আল্লামা কুতুব উদ্দীন জালালাবাদী রাহিমাহুল্লাহ।মসজিদে গিয়ে প্রথমে হযরতের মাকবারা যিয়ারত করি। তারপর শাইখের বাড়ীতে যাই।কারণ, শাইখের সন্তানরাই আজ আমাদের মুহতারাম মেযবান।

বাড়িতে প্রবেশের আগেই বাড়ির বাহিরে এসে আমাদেরকে অভ্যর্থনা জানান তারুণ্যের প্রিয় মুখ মুফতি রেজাউল কারীম আবরার। বাড়িতে গিয়েই দেখা হলো শাইখের বড় ছেলে মাওলানা এনামুল কারীম জুনাইদ ও জামিআ ইউসুফ বানুরী ঢাকার মুহতামিম মাওলানা আতাউল কারীম মাকসুদ হাফিযাহুল্লাহর সাথে। সালাম -কালাম ও হাল-পুরসীর পর্ব শেষে বসতে না বসতে হরেক রকম নাস্তা নিয়ে হাযির হলেন আমাদের আবরার ভাই। ইতোমধ্যে এসে পৌঁছলেন শাইখের কনিষ্ট সন্তান প্রিয় শিল্পী আনোয়ারুল কারীম মুস্তাজাব ভাই।

নাস্তা করতে করতে শুরু হলো ইলমী মুযাকারা, তাফরিহী বাত-চিত, বরণ্যদের স্মৃতিচারণ ও সমকালীন প্রসঙ্গসহ নানা আলোচনা।যুহরের আযান হয়ে গেলে নামাযে চলে গেলাম সবাই।

নামাযের পর আবারো মাকবারায় গেলাম। যিয়ারত করলাম। খলীফায়ে মাদানী হাজী আব্রু মিয়া সাহেব রাহিমাহুল্লাহর মাকবারা দেখলাম।ছোটকালে যখন ভুগোল পড়ি, তখন প্রথম হাজী আব্রু মিয়া সাহেবের নাম শুনি।

নামায পড়ে ঘরে এসে আবারো শুরু হলো আলোচনা। কিছুক্ষণ পর দুপুরবেলা খাবার হাযির করা হলো।গরুর গোশত ভুনা, মাছ ভাজি, মাছ ভুনা, সহ এত্তো বেশি আইটেমের খাবার যে সব খাবার প্লেটে নেয়ার সুযোগ-ই হয় নি! আমার কাছে সবচে মজা লেগেছে বাঁশের খরিলের (ছোট বাশ) তরকারী।আমি এটাই একধিকবার প্লেটে নিয়েছি।

মাওলানা এনামুল কারীম জুনাইদ, মুহতারাম আতাউল কারীম মাকসুদ, আবরার ভাই ও মুস্তাজাব ভাইসহ সকলে এক সাথে বসে খাবার খেয়েছি।

মেহমাননওয়াজি ছিলো আন্তরিকতায় ভরপুর। ভালোবাসা ও অন্তরঙ্গতার কোনো কমতি ছিলো না। সত্যি এমন আতিথ্যে আমি মুগ্ধ।

খাবারের পর একটু -আধটু বিশ্রাম নিতে নিতে খোশ গল্প চলতে লাগলো। আছরের কিছু পূর্বে বাড়ি থেকে বের হলাম।মাওলানা মাকুসদ সাহেব সহ তিন ভাই আমাদেরকে আধা কিলোমিটার পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন। এমন আন্তরিকতা আসলেই ভুলার নয়। আসলে বড়রা এমনি হয়।

আসরের নামায কোনাগ্রাম মসজিদে পড়লাম। সেখানে নামাযের পর মিফতাহুল উলুম ওয়াল ফুনুনের লেখক, হাদিস বিশারদ শাইখুল হাদিস জালাল উদ্দীন হাফিযাহুল্লাহকে দেখলাম। আরো দেখা হল তার দুই সুযোগ্য সন্তান ঢাকা হাজিপাড়া মাদরাসার ইফতা বিভাগের দায়িত্বশীল মুফতি জাকির ও মুগদা মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতি শাকির হাফিযাহুমাল্লাহর সাথে। সালাম-কালাম হল।

এরপর আরবি ইনশার প্রখ্যাত কিতাব, আল হাদিয়াতুল মারযিয়্যা, যা বিভিন্ন মাদরসায় সিলেবাসভুক্ত, যা আমিও পড়েছি, বইটির লেখক, প্রখ্যাত মুফতি ও আলিম, মাওলানা মুফতি রাহমাতুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহর মাকবারা যিয়ারত করলাম।এতে আমার অনেকদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হলো।যা লালন করতাম মুখতাসার জামাতে পড়াকালীন বইটি পড়ার সময় থেকে। হযরতের সুযোগ্য সাহেবযাদা হলেন, সিলেটস্থ দারুল কোরআন মাদরসার শাইখুল হাদীস মাওলানা হাবিবে রাব্বানী চৌধুরী।

এছাড়া হযরত জাওয়াদ পারকুলী ও আল্লামা ইসহাক তালবাড়ীর মাকবারা দূরে হওয়ায় যাওয়ার সুযোগ হয় নি।

পথিমধ্যে কোন এক মাকসাদে মাওলানা মাকসুদ সাহেবের সাথে চলে গেলাম তাঁর খালার বাড়িতে। বাড়িটি একেবারে সুরমা নদীর তীরেই অবস্থিত। অল্প সময়ে অধিক মেহমানদারী হয়েছে। মেজবানিতে তাদের সচেতনতা আমাকে মুগ্ধ করেছে।

মাগরিবের কিছু আগে সুরমার তীরে গিয়ে বসলাম। হিমেল মৃদু বাতাস, আর নদীর ঢেউ উপভোগ করতে করতে আবারো গল্পসল্পের আড্ডা জমে উঠলো।কিন্তু তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। কারণ মাগরিবের সময় একেবারে নিকটে।

ধুরু ধুরু বুকে বিদায় নিলাম তাঁদের কাছ থেকে।বিদায়ের কষ্ট বুকে নিয়ে খেয়া নৌকায় সুরমা নদী পার হলাম। মাগরিবের নামায রামধা বাজারে মসজিদে পড়ে ঐতিহ্যবাহী রামধা মাদরাসা একটু ঘুরে দেখলাম। এরপর জকিগঞ্জ রোড দিয়ে CNG যোগে কানাইঘাট এসে পৌঁছলাম।

জকিগঞ্জ রোড হয়ে আসার কারণে অনেকের সাথে দেখা হয়নি।বিশেষভাবে মুহতারাম আবদুল কারীম মাদানী, নাজমুল ইসলাম কাসিমী, আলী আবিদিন ভাই, মুফতি শাব্বির ভাই প্রমুখের সাথে।
যাক, আবার কখনো কোথাও দেখা হবে সেই প্রত্যাশা করি।

মাহমুদিয়া লাইব্রেরিতে দেখা হলো মুফতি খাইরুল আমিন মাহমুদীসহ অনেকের সাথে। কথাবার্তা হলো। রাত বেশি হয়ে যাওয়ায় শেষতক রাত্রি যাপন করলাম মাহবুব ভাইয়ের বাড়িতে।

মেহমাননওয়াজি তো বরাবরের মত সেই রকমই হয়েছে।এখানে বলার কিছু নেই।যারা সেখানে মেহমান তারাই বলতে পারবেন কেমন মেহমাননওয়াজ তারা।আর আলেমদের তো মেহমাননওয়াজির শান-ই আলাদা। শুকরিয়া জানাই সকলের প্রতি।

আল্লাহ আমাদের সকলকে ইলমে নাফে দান করুন। সিহহত, ইফফত ও আফিয়াতের জীবন দান করুন।

 

সাহিত্য সম্পাদক, শাইখুল হাদীস আল্লামা শিহাব উদ্দীন রাহিমাহুল্লাহ স্মৃতি পরিষদ বাংলাদেশ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
copyright 2020: ittehadtimes24.com
Theme Customized BY MD Maruf Zakir