1. admin@idealmediabd.com : Sultan Mahmud : Sultan Mahmud
ছোট গল্প- জীবন - ইত্তেহাদ টাইমস
বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
মতবিরোধ পরিহার করে মুসলিমদের এক হওয়ার ডাক দিলেন এরদোগান ট্রাম্প সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন, দায় তাকেই নিতে হবে: নির্বাচনী কর্মকর্তা দেশে করোনাভাইরাসে আরও ৩৮ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২১৯৮ বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান এবার উন্মুক্ত স্থানে নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করোনায় দেশে গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৩১ মৃত্যু, শনাক্ত ২২৯৩ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর রোগমুক্তি কামনায় গোয়াইনঘাট গ্রাম পুলিশের মিলাদ মাহফিল সাঈদুর রহমান লিটনের কবিতা “ফুলকি” দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাখাসসুসের মাদরাসা প্রতিষ্ঠা জরুরি : আল্লামা আলিমুদ্দিন দুর্লভপুরী মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে কঠোর হচ্ছে সরকার নাইজেরিয়ায় নামাজের সময় মসজিদে সন্ত্রাসীদের হামলা; নিহত ৫

ছোট গল্প- জীবন

মাওলানা হুসাইন আহমদ কামাল
  • প্রকাশটাইম: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০

হুসাইন কামাল

বাবা, দেখে পা ফেলো। সামনে কাদা আছে। না, সাবধানে চলো। ওদিকে যেও না। সামনে পাথরখণ্ড, হোঁচট খাবে।
সাত বছরের জীবন। ক্লাস টুতে পড়ে। মকররম আলীর একমাত্র ছেলে। চার বছর আগে জীবনের মা মারা যায়। টাইফয়েডে।
কী ভেবে মকররম আলী আর বিয়ে করেননি। হয়তো বা সহধর্মিণীর ভালোবাসায় আপ্লুত হয়ে বাকী জীবনটা একাই কাটিয়ে দিতে চান। নতুবা মা মরা একমাত্র ছেলে জীবনের মুখের দিকে চেয়ে সতিন নামের কাল সাপ ঘরে তুলেননি।
মকররম আলীর মনের কথাটা কেউ জানলো না। না জানারই কথা। কারণ তিনি একা থাকতে ভালোবাসেন। ঠিক সমাজবিচ্চ্যুত জীবন নয়, আবার কমও নয়। কারণ বর্তমানের দুঃশাসনের বৈরী সমাজের সাথে মকররম আলী নিজকে খাপ খাওয়াতে পারছেন না।
সাফ মনে আছে, বিয়ের চার বছর আগে মকররম আলী তার বাড়ির পাশে এক কেদার জমির বায়না করছিলেন তাজুব শেখের সাথে। দুই লক্ষ টাকা দর সাব্যস্থ করে স্বীয় ওয়ার্ডের মেম্বার নয়নের বাড়িতে তারই সামনে মকররম আলী নিজ হাতে পঞ্চাশ হাজার টাকা বায়না করেন।
ছ’ মাসের মধ্যে বাকি টাকা দিয়ে কাগজ রেজিস্টার করবেন। এমন পাকাপোক্ত কথারও বরখেলাপ হয়ে গেলো! সে ঘটনা মনে হলে মকররম আলীর চোখ দিয়ে জল পড়ে। জল পড়ারই কথা। কারণ মকররম আলী পাঠশালায় চাকরি করে মাসের সেলারি থেকে বাঁচিয়ে কিছু টাকা জমিয়ে ছিলেন। সে টাকা থেকে বায়না করছিলেন। অনেক কষ্ট করে অল্প অল্প করে বাঁচিয়ে সম্পূর্ণ টাকার মিল হচ্ছিলো না। মায়ের কিছু সোনা ছিলো। যা তার দাদীর আমানত, তাও বিক্রি করে জমি কেনার বাকি টাকাটা জোগাড় করে তাজুব শেখের বাড়িতে সকাল বেলা যখন মকররম আলী গিয়েছিলেন, তখন তার মাথায় যেনো আকাশ ভেঙ্গে পড়েছিল! মুখের উপরে তাজুব শেখ অস্বীকার করে বসলো!
সে কোনো বায়না গ্রহণ করেনি। আর ওই জমিটুকুও সে বেচবে না!
মকররম আলী কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে ধীরপায়ে নয়ন মেম্বারের বাড়ির দিকে রওয়ানা দিলেন।
– মেম্বার সাব বাড়ি আছেন? ও মেম্বার সাব!
– কে? আরে মকররম মাস্টার সাব যে! আসেন আসেন, কী খবর? শরীর-মন ভালো আছে?
– আর কইয়েন না। শরীর মন ভালোই ছিলো। কিন্তু এখন আর ভালো নেই। শরীর চললেও মন আর চলে না।
– কেন কী হয়েছে মাস্টার সাব?
– জি। শুনেন মেম্বার সাব। আপনারই তো সামনে আমার বাড়ির পেছনের জমি টুকরা কেনার লাগি গত ছ’ মাস আগে তাজুব শেখের লগে পঞ্চাশ হাজার টাকা বায়না করছিলাম। বড়ো কষ্ট করে বাকী টাকাটা জোগাড় করে রেজিস্টার করার জন্য আজ তাজুব শেখের কাছে গেছিলাম। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার তিনি অস্বীকার করছেন! আমি নাকি তাকে কোনো টাকা বয়নামা করিনি।
আচ্ছা মেম্বার সাব আপনি ক’ন তো টাকা আমি দেইনি?
– নাহ! আমিতো জানি না। কবে দিছিলেন?
– কী বলেন মেম্বার সাব! ছ’মাস আগে জুমআবারে সকালে তাজুব শেখের বাড়িতে আপনাকে দেখেছিলাম চা পান করতে। ওই সময় আমি খুশি হয়ে বলেছিলাম, মেম্বার সাব আমি আপনার বাড়ি খুঁজে আসছি। ভালোই হলো আপনাকে এখানে পেয়ে গেছি।
তখন তাজুব শেখও বলেছিলেন, মেম্বার সাব আপনি আছেন ভালোই হয়েছে। আমি ইরাদা করেছি মাস্টার সাবের বাড়ির পেছনের জমিটা উনাকে দিয়ে দেব।
আপনি চা খেতে খেতে বলছিলেন মাস্টার সাব চিন্তা নেই, টাকা পয়সা সাথে আনছেন? এনে থাকলে দিয়ে দিন। কাগজ করতে বাকি টাকা দিবেন। আর ভয় নেই, শেখ সাব জমি দিবেন। আর বায়নাপত্র লিখার দরকার নাই। বাড়তি টাকা কেন খরচ করবেন। দেন। টাকা দিয়ে দেন।
মেম্বার সাব সেদিন আপনি আমাকে বারণ করছিলেন বায়নাপত্র না লিখার জন্য। আজ আপনিও ভুলে গেলেন?! আপনিও বলছেন আমি টাকা দেইনি?!
আফসোস! আমি এখন কার কাছে যাবো! আমার ওয়ার্ডের মেম্বার হয়ে আমার সুখে দুখের কান্ডারী হয়েও আজ আপনি অস্বীকার করে ফেললেন! আমি আর কোথায় যাবো?! আর কোথায় গিয়ে সঠিকভাবে বিচার পাবো?!
জানি না, বিধাতা আমার ভাগ্যে কী লিখেছেন! আমারই ভুল হয়েছে এদেরকে বিশ্বাস করে। এদের মধুর কথায় আমি না আপ্লুত হয়ে বায়নামাটা লিখে রাখার দরকার ছিল। আফসোস! আফসোস!
বিড়বিড় করতে করতে মকররম আলী নয়ন মেম্বারের বাড়ি থেকে বেরুচ্ছিলেন।
সেদিনের কথা মনে হলে তার চোখে জল এসে যায়। অবশ্য মকররম আলী পঞ্চায়েতের কাছে বিচারপ্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু স্বাক্ষীর দুর্বলতায় সে বিচারে হেরে গিয়েছিলন।
মকররম আলীর দুনিয়ার মানুষকে চেনা হয়ে গেছে এই একটি মাত্র ঘটনায়। সে আর মানুষ নামের আজিব জন্তুটাকে বিশ্বাস করতে পারে না! কী করে মানুষ মানুষের এতো ক্ষতি করতে পারে!
মা মরা ছেলে জীবনের মুখের দিকে চেয়ে মকররম আলী প্রায় সময় আনমনা হয়ে যান। জীবনকে নিয়েই তার এখন সকল স্বপ্ন, সকল আশা। রোজ ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যান। সাথে করে আবার নিয়ে আসেন। নিজ হাতে টিফিন খাইয়ে দেন। জীবনের জন্য মকররম আলীর মায়ার শেষ নাই। কেননা জীবনই তার একমাত্র ছেলে।

লেখক: শিক্ষক, বিশিষ্ট লেখক, প্রাবন্ধিক ও গল্পকার

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
copyright 2020: ittehadtimes24.com
Theme Customized BY MD Maruf Zakir