1. admin@idealmediabd.com : Sultan Mahmud : Sultan Mahmud
দাঁতের চিকিৎসায় ইসলামি ফর্মুলা - ইত্তেহাদ টাইমস
বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
মতবিরোধ পরিহার করে মুসলিমদের এক হওয়ার ডাক দিলেন এরদোগান ট্রাম্প সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন, দায় তাকেই নিতে হবে: নির্বাচনী কর্মকর্তা দেশে করোনাভাইরাসে আরও ৩৮ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২১৯৮ বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান এবার উন্মুক্ত স্থানে নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করোনায় দেশে গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৩১ মৃত্যু, শনাক্ত ২২৯৩ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর রোগমুক্তি কামনায় গোয়াইনঘাট গ্রাম পুলিশের মিলাদ মাহফিল সাঈদুর রহমান লিটনের কবিতা “ফুলকি” দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাখাসসুসের মাদরাসা প্রতিষ্ঠা জরুরি : আল্লামা আলিমুদ্দিন দুর্লভপুরী মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে কঠোর হচ্ছে সরকার নাইজেরিয়ায় নামাজের সময় মসজিদে সন্ত্রাসীদের হামলা; নিহত ৫

দাঁতের চিকিৎসায় ইসলামি ফর্মুলা

মাওলানা শরিফ আহমাদ
  • প্রকাশটাইম: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২০

শরিফ আহমাদ

মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত ৷ জ্ঞানে-গুণে সর্ব বিষয়ে আকর্ষণীয় ৷ সর্বাধিক সুন্দর ৷ মানবদেহ পুরোটাই আল্লাহ দেওয়া নেয়ামত ৷ সাড়ে তিন হাত শরীরের ভাঁজে ভাঁজে দেখা যায় তার কুদরত ৷ পাওয়া যায় তার পরিচয় ৷ গোটা দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাঝে অন্যতম নেয়ামত দাঁত। এই দাঁত এক মূল্যবান সম্পদ।
মাওলা প্রদত্ত দাঁত জীবনে কতটুকু প্রয়োজন তা কমবেশি সবাই উপলব্ধি করতে পারে ৷ বিশেষ করে যারা বৃদ্ধ বয়সে দাঁত খুইয়েছেন অথবা যাদের দাঁত বিভিন্ন কারণে সর্বদা যন্ত্রণা দিয়ে থাকে তাদের দুঃখ ও আফসোসের সীমা থাকে না। কেননা সব ব্যথা-বেদনার মধ্যে দাঁতের ব্যথা মারাত্মক। দাঁতের ব্যথা মানুষের মস্তিষ্কে আঘাত করে। যা সহ্য করা অনেক কঠিন। এরপরও এমন অনেকেই আছেন যারা দাঁত না মেজেই পানাহার শুরু করেন। এভাবেই
দাঁতের পরিচর্যা না হওয়ায় মুখ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। সামাজিক চলাফেরা ও আচার ব্যবহারও মানুষ কষ্ট পায় ৷ আর মানুষকে কষ্ট দেওয়া হারাম ৷ একটি হাদীস এসেছে, খাঁটি মুসলমান ঐ ব্যক্তি যার হাত ও মুখ হতে অপর মুসলমান নিরাপদ থাকে ৷ ( মুসনাদে আহমাদ)
এজন্যই তো কল্যাণময় ধর্ম ইসলামে দাঁত মাজার জন্য গুরুত্বারোপ করা হয়েছে ৷ দাঁতের সুরক্ষায় বিশেষ হিকমাহ রাখা হয়েছে ৷ এই যেমন গোসল ও অজুর শুরুতে কুলি করা। কুলির দ্বারা দাঁতের মধ্যে খানার লুকিয়ে থাকা কণা বের হয়ে যায়। এতে মুখ পরিষ্কার হয়, যা দাঁতের রোগ থেকে মুক্ত করে, চোয়াল মজবুত হয় এবং দাঁতের মধ্যে উজ্জ্বলতা সৃষ্টি হয়, রুজি বেড়ে যায় এবং মানুষ টনসিলের রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকে। সুতরাং সুস্থ সবল দাঁতের পাশাপাশি অন্যান্য রোগ থেকে বেঁচে থাকতে নিয়মিত দাঁত মাজার বিকল্প নেই। এখন কথা হচ্ছে, কি দিয়ে দাঁত মাজবেন? দাঁত মাজার জন্য বহুল প্রচলিত তিনটি মাধ্যম ৷ ১. মাজন বা ছাই, ২.ব্রাশ ৩. মেসওয়াক। তো আপনি কোনটি ব্যবহার করবেন? আসুন জেনে নিই, দাঁতের জন্য কোনটি বেশি উপকারী।
ব্রাশের মাধ্যমে দাঁত মাজা যদিওবা আধুনিকতার অনুসরণ, তথাপি তা অনেক সময়ই ভুল ব্যবহারে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অপরদিকে প্রিয় নবীর প্রিয় সুন্নত মেসওয়াকে রয়েছে নানাবিধ উপকার ৷ বিভিন্ন গাছের ডালে তৈরি এই মিসওয়াকে রয়েছে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান। যা শরীরের জন্য অবশ্য প্রয়োজনীয়।

স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন, আমার উম্মাতের ওপর যদি কষ্টকর মনে না করতাম, তাহলে তাদের প্রত্যেক সালাতের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ করতাম। (বুখারি: হাদীস ৮৮৭, মুসলিম: হাদীস ৫৮৯)।
মেসওয়াকের গুরুত্ব তুলে ধরে অন্য হাদিসে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেন, ‘কখনো এমন হয়নি যে, জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আমার কাছে এসেছেন; অথচ আমাকে মেসওয়াক করতে বলেননি। এতে আমার আশংকা হতো মেসওয়াকের কারণে আমার মুখে অগ্রভাগ ছিন্ন-ভিন্ন করে না ফেলি।’ (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত)।
আরো অন্য একটি হাদিসে বলেন, মেসওয়াক মুখের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যম এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উপায়।’ (বুখারি, মিশকাত)
আল্লামা ইবনে হাজার (রহ.) মোনাব্বেহাত কিতাবে মেসওয়াকের বিশটি উপকারিতা উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে সর্বনিম্ন উপাকারিতা হলো ময়লা দূর করা, আর সর্বোচ্চ উপকারিতা হলো মৃত্যুর সময় কালেমা স্মরণ হওয়া। একারণেই হজরত আবু দারদা (রা.) বলেন, তোমরা নিজেদের জন্য মেসওয়াক করা অপরিহার্য করে নাও এবং এ ব্যাপারে উদাসীন হয়ো না। কেননা মিসওয়াকে রয়েছে চব্বিশটি উপকারিতা।
তার সবচেয়ে বড় ১০টি উপকার হল, (১) মেসওয়াক করলে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্টি হন (২) নামাজের সওয়াব বৃদ্ধি পায় । (৩) স্বচ্ছলতা আসে। (৪) মুখ সুঘ্রাণ হয় (৫) দাঁতের মাড়ি শক্ত হয়। (৬) মাথা ব্যথা সেরে যায়। (৭) চোয়ালের ব্যথা দূর হয়। (৮) ফেরেশতাগণ মোসাফাহা করেন। (৯) চেহারা উজ্জ্বল হয়। (১০) দাঁত উজ্জ্বল হয়।

তাছাড়া মেসওয়াক করতে টুথপেস্টের প্রয়োজন হয় না ৷ সহজেই পকেটে রাখা যায়। ফলে যখনই কোনো খাবার গ্রহণ করা হয়, তখনই দাঁত পরিস্কারে এটি ব্যবহার করা যায়। ব্রাশ করার মধ্যেও উপকার আছে। তবে মেসওয়াক অপেক্ষা কম। ব্রাশের মাধ্যমে দাঁত পরিস্কারের সুন্নাতটুকু আদায় হলেও নবীজি (সা.) এর সুন্নাহের অনুসরণ হয় না। তারপরও যারা ব্রাশ ব্যবহারেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তারা ব্যবহার করুন ৷ কোনো বাধা নেই। তবে ব্রাশ ব্যবহারে সঠিক নিয়মের প্রতি লক্ষ্য রাখুন। আর পাঁচ ওয়াক্তের নামাজের আগে অবশ্যই মেসওয়াক ব্যবহার করুন। বিসমিল্লাহ বলে মেসওয়াক শুরু করুন ৷ তারপর—
১. মুখের ডানদিক থেকে মেসওয়াক শুরু করা।
২. দাঁতের প্রস্থের দিক থেকে মেসওয়াক করা। অর্থাৎ দৈর্ঘ্যরে দিক থেকে (উপর-নিচে) নয়।
৩. ডান হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলী মেসওয়াকের নিচে রেখে আর তর্জনী, মধ্যমা ও শাহাদাত আঙ্গুল মেসওয়াকের ওপর রেখে বৃদ্ধাঙ্গুলীর পেট দ্বারা ভালভাবে ধরা।
মেসওয়াকের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি খেয়ালা রাখা উত্তম। জয়তুন ,নিম বা তুত গাছের কাঁচা ডালের হওয়া, হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুলের মতো মোটা হওয়া, প্রথমে এক বিগত পরিমান হওয়া, নরম হওয়া, কম গিরা সম্পূর্ণ হওয়া। (রদ্দুল মুখতার)।
নিয়মিত মেসওয়াক ব্যবহারে দাঁতের ব্যথা ও সব ধরণের রোগ থেকে বাঁচা সম্ভব ৷ অতএব সকলের যত্নবান হওয়া উচিত ৷

লেখক: আলেম, কবি ও আলোচক

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
copyright 2020: ittehadtimes24.com
Theme Customized BY MD Maruf Zakir