1. admin@idealmediabd.com : Sultan Mahmud : Sultan Mahmud
  2. abutalharayhan62@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  3. nazimmahmud262@gmail.com : Nazim Mahmud : Nazim Mahmud
  4. tufaelatik@gmail.com : Tufayel Atik : Tufayel Atik
দুঃখে ভরা জীবন ওদের - ইত্তেহাদ টাইমস
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১২:১৫ অপরাহ্ন

দুঃখে ভরা জীবন ওদের

মুহাম্মদ সাদ
  • প্রকাশটাইম: বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১

আনমনে পার্কের পাশ দিয়ে হাঁটছে সাকিব। ওর চেহারায় ফুটে উঠেছে বিষণ্ণতার ছাপ।দুঃখ-কষ্টে জীবনটি ওর কাছে দুর্বিষহ হয়ে ওঠেছে। রাজ্যের দুশ্চিন্তা আর পেরেশানি ওকে আষ্টে-পৃষ্ঠে ধরে রেখেছে। এই প্রশস্থ পৃথিবীও ওর কাছে অনেক সংকীর্ণ মনে হচ্ছে। যাতনার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে এ জগতসংসার ওর কাছে অসহ্য লাগছে। হঠাৎ পিছন থেকে একটি শিশুর করুণ ডাক শুনতে পেল, ‘ভাইয়া আমারে কইডা ট্যাহা দেন, মুই দুইদিন ধইরা কিছুই খায় নাই।’ সাকিব পিছনে তাকিয়ে দেখল ধুলোমলিন ছেঁড়াফাটা জামা গায়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কংকালসার একটি ছোট্ট মেয়ে। সাকিব ওকে জিজ্ঞেস করল কীরে তোর বুঝি অনেক ক্ষুধা লেগেছে, ও মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললো। চল তাহলে আমার সাথে। সাকিব ওকে নিয়ে পার্কের পাশে একটি হোটেলে গেল। ওর জন্য এক প্লেট বিরিয়ানির অর্ডার করলো, মেয়েটি বিরিয়ানি পেয়ে তো মহাখুশি। এমন ভালো খাবার ওই জীবনেও চোখে দেখে নাই, ও গাপুসগুপুস করে পুরো প্লেট মুহূর্তের মধ্যে সাবাড় করে ফেললো। কারণ দু’দিন ধরে ওই অনাহারে আছে। সাকিব মূল্য পরিশোধ করে ওকে নিয়ে বাইরে এলো। ওকে বললো, ওহ তোর নামটাই তো এখনো জানা হয়নি। কী নাম তোর? মেয়েটি সহাস্যে বললো, সুমি।সাকিব বললো, মাশাল্লাহ অনেক সুন্দর নাম।ওরা দু’জনে পার্কের একটি বেঞ্চে বসে নিজেদের সুখ-দুঃখের গল্প ভাগাভাগি করছিলো একে অপরের সাথে। সাকিব বলতে লাগলো, সুমি জানিস কিছুদিন আগেও আমার জীবনটা সাজানো গোছানো পরিপাটি ছিলো। কিন্তু এক কালবৈশাখী ঝড় এসে এলোমেলো করে দেয় আমার জীবন। হঠাৎ করেই একটা রোড এক্সিডেন্টে বাবা মারা যান। বাবার মৃত্যুতে আমাদের পরিবারে নেমে আসে অমানিশার আধাঁর। বাবার শোকে মা এখন শয্যাশায়ী। বাবার অবর্তমানে পরিবারের দায়িত্ব আমাকেই নিতে হয়।সুমি একটা কথা সবসময় মনে রাখবি, আমাদের কারও কাছে মনে হয় জীবন বুঝি উচ্ছল হাসির বহমান ঝর্ণাধারা। হাসির স্রোতেই পার হতে থাকবে জীবনের সকাল- সন্ধ্যা। অথচ আমরা ভুলে যাই জীবন হতে পারে দুঃখের সাগরে ভাসমান ভেলা! সাকিবের জীবনে ঘটে যাওয়া বেদনাদায়ক এ ঘটনাটা শুনে কখন যে সুমির গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়া ফোঁটা ফোঁটা অশ্রুবিন্দু ওর জামা ভিজিয়ে দিয়েছে, সেদিকে ওর কোন ভ্রুক্ষেপই নেই। এবার সুমি সাকিবকে বলতে লাগলো, ‘ভাইয়া আন্নে তো আন্নের আব্বারে দেখছেন কিন্তু মুই মোর বাপরে কোনদিন দেহি নাই, মুই জানি না বারার স্নেহ ভালোবাসা, মায়া-মমতা কারে কয়। বাবার আদর কেমন সেটাও জানা নাই মোর।’ এ কথাগুলো বলে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে লাগলো ও। সুমি সাকিবকে আরও বলতে লাগলো, ‘ভাইয়া আন্নে অনেক ভালা। জানেন ভাইয়া, মুই পথশিশু দেইখা কেউ মোর লগে কথাই কইতে চায় না, সবাই খালি মোরে ধুর ধুর করে তাড়িয়ে দেয়, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। সবার কাছেই মুই শুধু অপমানিত আর অবহেলিত হই! মুইতো রক্ত মাংসে গড়া ওদের মতই মানুষ। মোর ত প্রয়োজন অন্ন-বস্ত্র বাসস্থান। মোরও ত মন চায় স্বপ্ন দেখতে, লেখাপড়া কইরা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে, নরকের জীবন থেইকা মুক্তি পাইতে। কিন্তু মোদের স্বপ্নগুলা স্বপ্নরাজ্যেই থাইকা যায়। মোরা মানষের লাত্থি-গুতা খাইয়াই পার কইরা দেই পুরা জিন্দেগী। কারণ মোরা যে পথশিশু…..’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ইত্তেহাদুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন-এর একটি প্রতিষ্ঠান copyright 2020: ittehadtimes24.com  
Theme Customized BY MD Maruf Zakir