1. admin@idealmediabd.com : Sultan Mahmud : Sultan Mahmud
  2. abutalharayhan62@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  3. nazimmahmud262@gmail.com : Nazim Mahmud : Nazim Mahmud
  4. tufaelatik@gmail.com : Tufayel Atik : Tufayel Atik
পর্দায় প্রভুর সাহায্য মেলে - ইত্তেহাদ টাইমস
মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
৭৫-এ পা রাখলেন শেখ হাসিনা : অকুতোভয় মানসিকতাই যার দেশ গড়ার শক্তি কানাইঘাট দিঘীরপাড় ইউপিতে ভিজিটির চাল বিতরণ কানাইঘাটে ৫শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা : প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন নবির সুন্নাহ দাড়ি কাটায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তা লে বা ন শেখ হাসিনা একমাত্র চরিত্রবান : ওবায়দুল কাদের সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা : শিশুসহ নিহত ৩ প্রতিদিন কমলা ও স্ট্রবেরি খাওয়ার উপকারিতা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ, ৩ সংবাদকর্মীসহ আহত ১৩ আকর্ষণীয় বেতনে গুরুত্বপূর্ণ ৬ পদে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দেবে দারুর রাশাদ মাদরাসা মক্তবে যাওয়ার পথে ট্রাকচাপায় মাদ্রাসাছাত্র নিহত

পর্দায় প্রভুর সাহায্য মেলে

উম্মে মাবাদ
  • প্রকাশটাইম: মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১
  • রাত্রী গভীর, নির্জন আশপাশ—হুটহাট কুকুর ডাকে,তারপর আবার কোলাহলমুক্ত শহুর । নিলা ও ফারহা শহরের গলির দেওয়াল মেখে হেঁটে যাচ্ছে দু’জন । হুট করে তাদের সামনে ধ্বনিত হল বিকট আওয়াজ—প্রাইভেট কার থেকে নেমে তাদের সামনে এলো কয়েকটি ছেলে।বোধহয় ঘায়েল করেছে তাদের। সবার মাঝ বরাবর দাঁড়াল একটি ছেলে ।
    রাতের আঁধারে মুখখানি বোঝা যাচ্ছে না৷ছেলেটি ভ্রু কুচকে ফারহার দিকে তাকাল৷ফারহা বোরকা পরা হাত-পায়ে মুজো৷ চোখ ঢাকা বললেও চলে ৷ তারপর আফিফের চোখ যায় নিলার দিকে ৷
    নিলা শাড়ি পরা। মুখের লাবণ্যটা টলমল করছে এখনও৷ বেশ বাচ্চা বাচ্চা চেহারা—কালো শাড়ির আচলের সিমাবদ্ধতা খুব দূরে নই৷ আফিফের চোখ ক্ষুধার্ত বাঘের ন্যায় নিলার দিকে চেয়ে আছে৷ তারপর আনমনে নিলার হাতটি ধরলো আফিফ। ফারহা ঠাস করে আফিফের গালে একটা চড় কষে দিল৷ ব্যাপারটা খুব তাড়াতাড়ি ঘটলো— আফিফ রাগ সহ্য করতে না পেরে ফারহার হাত টেনে ধরে, তারপর ফারহার বোরকা টেনে খুলে ফেলার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ময়ের সাগরে ডুব দেয়।

    —ফারহা তুমি?
    —কেনো অবাক হচ্ছেন আফিফ সাহেব?
    —না, মানে৷
    —আল্লাহ আমাকে কেমনে হেফাজত করেছেন ভেবে দেখলেন? এই আপনার সঙ্গে আমার দিন দুয়েকের মধ্যে বিয়ে হয়ে যেত৷ কথাবার্তা পাকা ছিলো। আপনার এই নোংরা জীবন কাহিনী জানাবার জন়্যে শুকরাণ।
    —আফিফ হাসে খিলখিল করে। সে কি ভয়ংকর হাসি৷ রাত বিরাতে এমন হাসি ফারহার গা ঝাট দিয়ে ওঠে৷
    আফিফ বলল, চলো চা খাবো আর লাইফস্টাইল খুলে বলবো৷ ফারহা কিচ্ছু বলে না৷ চুপচাপ নিলাকে নিয়ে ছেলেগুলোর সঙ্গে যায়৷ এক চায়ের দোকানে ঢুকলো আফিফ৷ সঙ্গে ছেলেগুলো ও নিলো।আফিফ বলল,ঐ বুড়ো, চা দে সাত কাপ৷ তারপর ফারহার দিকে তাকিয়ে বলে, যখন সব জেনেই গেছ কি আর করার!আজই বিয়ে পড়িয়ে নিব।দিন দুয়েক এসব সহ্য করতে কষ্ট হবে৷ তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে৷ আফিফ ফারহার হাত ধরে। ফারহা চেঁচিয়ে বলে উঠে;ছাড় আমাকে- কিন্তু তার শব্দ বড়জোর দোকানওয়ালার নিকট পৌঁছায়—সে ভিতু চোখে তাকিয়ে আছে এদিকে৷ আফিফ ফারহার গাল চেপে ধরে। তারপর ওর বন্ধুদের বলে— নিলাকে পাশের রুমে নিয়ে যেতে৷ সবাই মিলে তাকে পাশের রুমে নিয়ে যায়৷ কিছু সময় পর আফিফ সে রুমে ঢুকে পড়ে—এ পাশে ফারহাকে পাহারা দিচ্ছে বাকি ছেলেগুলো৷ কিছু সময় পর আফিফ বের হয়,কিন্তু নিলা আর বেরুই না৷ কি হলো নিলার? ফারহার মনে ছটফটানি৷ চোখে অশ্রুজল৷ ঠোঁটে মিশে আছে ঘাম৷ বারবার ঘেমে যাচ্ছে সে৷ দোকানি এখনো ভিতু চোখে আফিফের দিকে তাকিয়ে আছে৷ এর আগে কাকে যেনো কল করেছিলো৷ যদ্দুর সম্ভব সে পুলিশকে কল করেছে৷ এমনটাই মনে হচ্ছে ফারহার। আল্লাহ নিশ্চয় দোকানিকে সাহস দিয়ে দিয়েছেন৷ তিনি তার বান্দিকে বিপদে ফেলবেন না৷ আফিফ চট করে ফারহার হাত ধরে বসলো৷ তারপর তাকে নিয়ে গেলো ঐ রুমে- ঢুকতেই উস্তাদ বলে কঠিন চিৎকার৷ আফিফ ফিরে তাকায় দোকানি আফিফের এক চামচার গলায় ছুরি বসিয়েছে৷
    এ মানুষটার এতো সাহস হলো কী করে? এটা আল্লাহর রহমত ছাড়া কিছু নই৷
    আফিফ বিরক্তিকর কণ্ঠে বলল,ছাড় তোর হাতে এসব মানায় না। ছেড়ে দে৷ দোকানি বলে উঠলো- আফনে ঐ মাইয়াডারে ছাইড়া দেন৷ আফিফ চিৎকার করে বলে উঠলো,তোর কী লাগে ঐ মাইয়ে? আগের টারে নিলাম তখন তো কিছু বললি ন। এর জন্যে এতো দরদ ক্যান?
    দোকানি কাঁদো কাঁদো স্বরে বলে উঠলো,
    আগের মেয়েটা অশ্লিল পোমাক পরেছিল,
    তাই আমি সহ্য করতে পেরেছি।কিন্তু এ এতো ভালো পোশাক পরে এরকম বিপদে পড়বে—
    আমি সহ্য করতে পারিনি৷ আল্লাহ আমাকে সহ্য করার তৌফিক দেন নি৷ নিলা দরোজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে৷ এলোমেলো চুল লেপ্টে লিপিষ্টিকটা ন্যাটকিয়ে গেছে৷ শাড়িটি সে ঝাঁপ্টিয়ে ধরেছে শরিরের সঙ্গে। আফিফ তার বন্ধুকে কি একটা ইশারা করলো৷ খুব সম্ভবত দোকানির হাত থেকে ছুরিটি কেড়ে নেওয়া হবে৷ এসবে বেশ পারদর্শী এরা৷যে কথা সে কাজ৷ দোকানির থেকে ঠাস করে ছুরিটি কেড়ে নিলো আফিফের বন্ধু।তাহলে কি সব আবার ব্যাতিক্রম হবে? আল্লাহর পথে চলেও কি এই অসহায় অবস্থা হবে? ফারহা ভাবছে আর কাদঁছে—তখনি হুইচাল৷
    মিনিট দুয়েকের মধ্যে সবাই গ্রেফতার৷ তারপর দোকানি কে কিছু টাকা দিয়ে নিলা ও ফারহা বাড়ির পথ ধরলো৷ নিলা কাঁদছে- হু হু করে কিছু সময় পরপর শব্দ বের হচ্ছে৷ ফারহা বলল,নিলা৷ তুই এমন করে কাঁদিস না৷ বাড়ি গেলে সবাই সন্দেহ করবে৷ নিলা কেঁদে কেঁদে বলে উঠল,তোর তো এমন হল না৷ আমার কেনো হল? আরে! যারা পর্দা করে আল্লাহ তাদের সহায় হন৷ কথাটি বলে চুপ করে গেলো ফারহা৷ নিলা কথাটি আওড়াতে আওড়াতে বাড়ি অবধি গেল৷ নিলা ও ফারহা চাচাতো বোন। এক বাড়িই থাকে৷ যৌথ ফ্যামিলি৷ বাড়ি এসে নিলা দু’তালায় যেতেই ওর আম্মু বলে উঠল,কি রে! তোর শরীর এরকম দেখাচ্ছে কেন? কিছু হয়েছে? নিলা বলল, ব্যাস মা ঐ একটু টায়ার্ড।
    বিশ্রাম নিলে ঠিক হয়ে যাবে৷ রাত্রী দু’টো।বাড়ির সবাই ঘুমে। ফারহা বেলকুনি দিয়ে তাকিয়ে আছে,নিলা তার কাঁধে হাত রেখে বলল,ফারহা আজ তোকে পার্টিতে জোর করে না নিয়েগেলে এসব কিছুই হতো না রে৷ ফারহা বলল,
    আরে সমস্যা নাই—যা ভাগ্যে ছিল তাছাড়া তার আসলরূপ না জানলে জীবনটাই বরবাদ৷
    আল্লাহ বাঁচিয়েছেন৷ নিলা শক্ত করে ফারহার হাতটা ধরলো৷ তারপর বলে উঠল, ফারহা আমি এখন থেকে পর্দা করতে চাই৷ পর্দা না করার কারণে জীবনে এমন একটা ঘটনা ঘটে গেলো৷ কথাটা শুনে বিস্মিত হলো ফারহা৷ তাকালো নিলার দিকে। নিলা বাচ্চাদের মতন দু’পাশে মাথা নাড়া দিল। ফারহা চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলল,আজকের এই রাতটা আমাদেস জন্যে সব থেকে ভাল।নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা খারাপ দিনের পরে ভাল দিন রাখেন৷

  • Please Share This Post in Your Social Media

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    More News Of This Category
    ইত্তেহাদুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন-এর একটি প্রতিষ্ঠান copyright 2020: ittehadtimes24.com  
    Theme Customized BY MD Maruf Zakir