1. admin@idealmediabd.com : Sultan Mahmud : Sultan Mahmud
  2. abutalharayhan62@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  3. nazimmahmud262@gmail.com : Nazim Mahmud : Nazim Mahmud
  4. tufaelatik@gmail.com : Tufayel Atik : Tufayel Atik
বঙ্গবন্ধুকে শহীদ বলা নিয়ে কারো দাবি এবং কারো নারাজি - ইত্তেহাদ টাইমস
মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
৭৫-এ পা রাখলেন শেখ হাসিনা : অকুতোভয় মানসিকতাই যার দেশ গড়ার শক্তি কানাইঘাট দিঘীরপাড় ইউপিতে ভিজিটির চাল বিতরণ কানাইঘাটে ৫শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা : প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন নবির সুন্নাহ দাড়ি কাটায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তা লে বা ন শেখ হাসিনা একমাত্র চরিত্রবান : ওবায়দুল কাদের সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা : শিশুসহ নিহত ৩ প্রতিদিন কমলা ও স্ট্রবেরি খাওয়ার উপকারিতা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ, ৩ সংবাদকর্মীসহ আহত ১৩ আকর্ষণীয় বেতনে গুরুত্বপূর্ণ ৬ পদে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দেবে দারুর রাশাদ মাদরাসা মক্তবে যাওয়ার পথে ট্রাকচাপায় মাদ্রাসাছাত্র নিহত

বঙ্গবন্ধুকে শহীদ বলা নিয়ে কারো দাবি এবং কারো নারাজি

সৈয়দ মবনু
  • প্রকাশটাইম: শনিবার, ৭ আগস্ট, ২০২১

২০১৫ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবে আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠন দাবীদার ‘ওলামা লীগ’ তাদের কিছু দাবী নিয়ে একটি মানব বন্ধন করেছিলো। তাদের দাবীগুলোর অন্যতম তিনটি দাবী নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। তাদের দাবীর মধ্যে ছিলো;

১) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের পূর্বে ‘শহীদ’ শব্দ যুক্ত করতে হবে
২) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের শেষে ‘রাহমাতুল্লাহ…’ লাগাতে হবে
৩) ১৫ আগস্টকে শহীদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।

আওয়ামীলীগের সাথে থাকা যেসব দল বা ব্যক্তি ধর্ম নিরপেক্ষতার দাবিদার তাদেরকে ওলামালীগের এই দাবী বেশ বিপাকে ফেলেছিলো। তখন তারা কেউ কেউ বিষয়টিকে জোকস বলে উড়িয়ে দিলেও অনেক বিষয়টি নিয়ে ভাবিত। কারণ, এই তিন দাবিই ধর্মনিরেপেক্ষতার সাথে সাংঘর্ষিক। যারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধর্মহীন সেকুলার প্রমাণের জন্য একাত্তর থেকে এই পর্যন্ত হাজারো চেষ্টা করেছেন, তারা এই দাবিকে কোনদিন মেনে নিতে পারবেন না, তিনি ডান কিংবা বাম যেদিকেই থাকেন না কেন। এই দাবিগুলো যদি বাস্তবায়িত হয়ে যায় তবে প্রমাণিত হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধর্মহীন কিংবা ধর্ম বিদ্ধেষী সেকুলার ছিলেন না, বরং ধার্মিক ছিলেন। আর এখানে স্মরণ রাখতে হবে, ইসলাম যেমন নিচক ধর্ম নয়, তেমনি নিচক সেকুলার নয়। ইসলাম ধর্ম এবং সেকুলার-এর সমন্বয়ে দ্বীন। ইসলাম বুঝতে হলে সেকুলার এবং ধর্ম দুটা বিষয়কেই পূর্ণাঙ্গ বুঝতে হবে।

‘বঙ্গবন্ধু ইসলামের বিশ্বাসী’- এ জিনিস যদি প্রমাণিত হয়ে যায় তবে আমাদের নিচক সেকুলার বামরা যেমন নারাজ হবেন তেমনি একাত্তরে যারা ইসলামের নাম ভাঙিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাশাসকদের স্বার্থ রক্ষার্থে কাজ করেছেন তারা সাধারণ মানুষের কাছে আর মুখ দেখাতে পারবেন না। কারণ, তারা তো তাদের পক্ষে কিছু ধর্মপ্রাণ মানুষকে ধরে রেখেছেন শেখ মুজিবকে নাস্তিক, সেকুলার, ভারতের এজেন্ট ইত্যাদি বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে।

প্রকৃত অর্থে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এসবের কিছুই ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক-মানুষপ্রেমিক বাঙালি সাধারণ মুসলমান। তিনি কোনদিন নিচক সেকুলার কিংবা ভারতের দালাল কিছুই ছিলেন না। এই পর্যন্ত আমার গবেষণা থেকে তাঁর যে চরিত্র পেয়েছি তা দিয়ে আর কিছু করা সম্ভব হলেও দালালি করা সম্ভব নয়। তাঁকে দালাল এবং ‘র’-এর এজেন্ট বলছেন কারা? যারা শহিদের মিছিল আর রক্তের বন্যা দেখেও স্বৈরাচার আর লম্পট-মদ্যপদের সহযোগি ছিলেন শুধু পদ আর পদবীর লোভে কিংবা প্রাণের ভয়ে তাদের কি সেই অধিকার রয়েছে যিনি সবসময় কাপড় তৈরি করে রাখতেন জেলে যাওয়ার জন্য, যাকে মৃত্যুর মঞ্চ বানিয়েও আপোস করানো যায়নি, যিনি কোনদিন মদ পান করেননি, প্রাপ্তবয়স হওয়ার সাথে সাথেই বিয়ে করেছেন আর কোন শত্রুও বলে না যে তাঁর কোনদিন নারী-আশক্তি ছিলো, যিনি আজীবন দেশ-জাতির জন্য লড়াই করেও মা-বাবা, স্ত্রী এবং বাচ্চাদেরকে রেখেছেন সন্তুষ্ট, কিন্তু পরিবারের সুখের চিন্তায় কোনদিন নিজের আদর্শকে বিক্রি করেননি কোন স্বৈরাচার কিংবা শক্তি-পরাশক্তির কাছে, হোক সে পাকিস্তান, ভারত, আমেরিকা কিংবা রাশিয়া? আজও যারা সামান্য পদ-পদবী আর অর্থের লোভে কিংবা জেল-জুলুমের ভয়ে কাতারবদ্ধ হয়ে গিয়ে আপোষ করেন কিংবা টেবিলের নীচে লিয়াজু করেন নিজের ব্যক্তিগত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রক্ষা করতে তাদের মুখ থেকে কমপক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে কথা বলা বেমানান।

‘ওলামা লীগ’ কি আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠন? তা জানি না। তবে বর্তমানে দেশ চালাচ্ছে আওয়ামীলীগ। সরকার আওয়ামীলীগ কর্তৃক গঠিত। আওয়ামীলীগের প্রধান যিনি তিনি রাষ্ট্রেরও প্রধান। তিনি আবার শেখ মুজিবের মেয়েও। ওলামালীগ যখন এই দাবি করেছিলো তখনও আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় ছিলো। আমি জানি না ওলামালীগ যে এ দাবি করেছে তা তাদের দলের সিদ্ধান্তক্রমে কি না। যদি দলের সিদ্ধান্তক্রমে হয় তবে এই দাবি প্রমাণ করে আওয়ামীলীগ নিচক কোন সেকুলার সংগঠন নয়। অবশ্যই বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগ মৌলিকভাকে কোনদিনই নিচক কোন সেকুলার সংগঠন ছিলো না। ডান-বাম-ইসলামিক যারা আওয়ামীলীগের উপর এই অপবাদ দেন তারা মূলত তা তৈরি করেছেন একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে (তিনি তখন জেলে ছিলেন)। জেল থেকে এসে দেখেন তিনি সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। তখন তাঁর আর কিছু করার থাকলো না। যখন তিনি কিছু করতে চাইলেন তখনই শত্রুরা তাঁকে স্বপরিবারে শহিদ করে দিলো।
ওলামালীগের এই দাবীর পর ফেইসবুকে একজন বন্ধু প্রশ্ন করেছেন-ওলামালীগের এই দাবী কতটুকু যুক্তিসংগত?আমি সেদিন উত্তরে বলেছিলাম; ওলামালীগের এই দাবী তখনই যুক্তিসম্মত হয়ে যায় যখন জামায়াত, খেলাফত, জমিয়ত, নেজাম সহ যে সকল দল বিএনপির সাথে জোটে থেকে প্রেসিডেন্ট জিয়াকে শহিদ বলেন। আমি এখানে ওলামালীগ আর ওলামাদলকে পৃথক করে দেখতে পারি না। আমার প্রশ্ন যদি ‘জিয়া’ শহিদ হন তবে ‘মুজিব’ হবেন না কেন? এখন প্রশ্ন হলো শহীদের সংজ্ঞা কী? সংজ্ঞানুসারে ওরা শহীদ কি না? হানাফি ফিকহের প্রখ্যাত কিতাব হেদায়ার ভাষ্যানুসারে কোন মুসলমানকে যদি কেউ অন্যায়ভাবে লোহার আঘাতে হত্যা করে সে শহীদের মর্যাদা পাবে। অবশ্য কেউ কেউ এটাকে ধর্মীয় যুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত করে বলেছেন। মুজিব এবং জিয়াকে যে অস্ত্রগুলো দিয়ে হত্যা করা হয়েছে তা পূর্ণাঙ্গ লোয়া দিয়ে তৈরি। হেদায়ার মাসআলা অনুযায়ি তাদেরকে শহিদ বলা যাবে। যারা বলেন তা শুধু ধর্মীয় যুদ্ধের ক্ষেত্রে। তারা প্রকৃত অর্থে ইসলামকে নিচক ধর্মই দেখেন। ইসলাম হলো দ্বীন, এখানে ধর্ম ও সেকুলার সমন্বয় হয়েছে; অর্থাৎ ইসলামে দুনিয়া ও আখেরাত দুটারই গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশে যারা বিএনপি মার্কা ইসলামিক কিংবা বিএনপি-জামায়াত জোটের তারা জিয়াকে শহিদ বললেও মুজিবকে বলতে নারাজ। বিষয়টা ফিকাহের সমস্যা মোটেও নয়, তা হলো দলীয় অন্ধত্ব।

এখন প্রশ্ন হলো, বঙ্গবন্ধুর নামের শেষে ‘রাহমাতুল্লাহ…’ ব্যবহার নিয়ে। রাহমাতুল্লাহ তো একটা দোয়া, এই দোয়া যেকোন মুসলমানের নামের সাথে বলা যেতে পারে। শুধু যে মৃত ব্যক্তির নামের সাথে বলতে হবে তা কিন্তু নয়, জীবিতের নামের সাথেও ‘রাহমাতুল্লাহ…’ ব্যবহার করা যাবে।

অতঃপর কথা হলো, ১৫ আগস্টকে ‘শহীদ দিবস’ বলা নিয়ে। যেহেতু ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় শহিদ দিবস, তাই ১৫ আগস্টকে শহীদ দিবস মানা যাবে না। অবশ্য বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ১৫ আগস্ট সরকারিভাবে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে এবং এটাই যথার্থ।

সবশেষে বলবো, আবেগ দিয়ে কিছু বিচার করতে চাইলে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছা যায় না। তাই আবেগকে থামিয়ে জ্ঞান, বুদ্ধির আলোকে বিবেচনা করতে হবে। এমন কি আমার মতের বিরুদ্ধেও আপনার মত দিতে পারেন যৌক্তিকভাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ইত্তেহাদুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন-এর একটি প্রতিষ্ঠান copyright 2020: ittehadtimes24.com  
Theme Customized BY MD Maruf Zakir