1. admin@idealmediabd.com : Sultan Mahmud : Sultan Mahmud
  2. abutalharayhan62@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  3. nazimmahmud262@gmail.com : Nazim Mahmud : Nazim Mahmud
  4. tufaelatik@gmail.com : Tufayel Atik : Tufayel Atik
ভয়াবহ বন্য, ইতিহাসরেকর্ড তাপদাহ, ঘনঘন লোডশেডিং : ভাল নেই সিলেট - ইত্তেহাদ টাইমস
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন

ভয়াবহ বন্য, ইতিহাসরেকর্ড তাপদাহ, ঘনঘন লোডশেডিং : ভাল নেই সিলেট

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
  • প্রকাশটাইম: রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০২২

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় লণ্ডভণ্ড পুণ্যভূমি সিলেট। ঘরবাড়ি,সহায়-সম্পত্তি হারিয়ে নিরুপায় বন্যাদুর্গতরা। তবু প্রাপ্তির ঈদ এসে শত কষ্টের মাঝেও ঘুরে দাঁড়াবার মৃদুহাসি ফোটিয়েছে। অসহায়দের পাশে দাঁড়াচ্ছে সরকারসহ বিভিন্ন মানবিক সেবা সংস্থা। কিন্তু সিলেটবাসীর মুখে হাসি খুবই বেমানান। টিকে থাকে না কিছুদিনও। অশ্রুস্নাতঅবয়বই যেন প্রকৃতিকন্যা সিলেটের আসল রূপ! বন্যার পর বন্যা,ঝড়ের পর ঝড়,আঘাতের পর আঘাত—শাহজালালের পুণ্যভূমিতে এগুলো এখন নিত্যদিনের চিত্র। বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সিলেটজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র তাপদাহ আর ঘনঘন লোডশেডিং। মরণঘাতি তাপদাহ ছাড়িয়ে গেছে প্রায় ৭০ বছরের রেকর্ড। আষাঢ়ের শেষদিনে চৈত্রের ভরা যৌবন নিয়ে গত ১৪ জুলাই সিলেটে তাপমাত্রা ছিল ৩৮.৯ ডিগ্রী। ১৯৫৬ সালের পর এই প্রথম এমন তাপমাত্রা! সিলেট আবহাওয়া অফিস বলছে,৬৬ বছরের রেকর্ড এটি। অস্বাভাবিক তাপদাহের কারণে সিলেটজুড়ে বেড়েছে জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগব্যাধিতে আক্রান্তদের সংখ্যা। হাসপাতাল-ক্লিনিক, ডাক্তারের চেম্বারে বাড়ছে রোগিদের ভিড়। বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরা। অটোরিকশাচালক আমানুল্লাহর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন,কোনমতে ঈদ কাটিয়ে রোজগার করতে বের হয়েছিলাম। কিন্তু এবারও কিছুই হচ্ছে না। ভয়াবহ বন্যায় সবকিছু হারিয়েছি। বন্যা শেষে এবার প্রচণ্ড গরমে জ্বর আর মাথাব্যথা বেড়ে যাওয়ায় গাড়ি চালাতে পারছি না। স্ত্রী-সন্তানরাও জ্বরাক্রান্ত। খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছি।

শ্রমজীবী রুহুল আমিন বলেন,ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরেছি বৃহস্পতিবারে। প্রচণ্ড তাপদাহে কাজ করতে পারি নি। হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ি। দুইদিন জ্বরাক্রান্ত হয়ে বিছানায় ছিলাম।এখনো পুরোপুরি সুস্থ হতে পারি নি। বাড়ির বৃদ্ধরাও জ্বর-কাশিতে ভোগছেন। গরমের পাশাপাশি অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে অসহনীয় দিন পার করছি।

মাদরাসা শিক্ষক মাওলানা আবদুল কাদির ফারুক বলেন,ঈদের ছুটি শেষে আমাদের মাদরাসা খোলেছে। কিন্তু শনিবার শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। খবর নিয়ে জানা গেছে, বেশিভাগই জ্বর,মাথাব্যথা, কাশিতে আক্রান্ত।

কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান,ঈদের দিন মধ্যাহ্ন থেকে টানা তাপদাহে কানাইঘাটে অসহনীয় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উপেজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে জ্বর,কাশি,চর্ম ও ডায়রিয়াক্রান্ত রোগিদের সংখ্যা।

জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান,সিলেটজুড়ে প্রচণ্ড তাপদাহ। তবে গরমে এখনপর্যন্ত উপজেলায় তেমন কোন রোগির সংখ্যা বাড়ে নি। এদিকে উপজেলার সমাজসেবী মাওলানা মুশতাক বলেন,প্রচণ্ড গরম আর লোডশেডিংয়ে অসহনীয় দিনাতিপাত করছি।ভয়াবহ বন্যায় সিলেটের অর্থনীতি যখন চরম তলানিতে,ঠিক এমন সময়ে প্রচণ্ড তাপদাহে জ্বর,মাথাব্যথা, কাশি ও চর্মরোগিদের সংখ্যা বেড়েছে। মহান আল্লাহর কাছে এমন তাপদাহ থেকে পানাহ চাচ্ছি।

এদিকে শুক্রবার (১৫জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট বিভাগসহ দেশের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই তাপপ্রবাহ আরও দুই দিন অব্যাহত থাকবে। আগামী ১৮ জুলাই সোমবারের পর থেকে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। একই সময়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতাও বাড়তে পারে। এদিন আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন আগামী তিনদিনের আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, এ সময়ের শেষের দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, উত্তর উড়িষ্যা ও এর কাছাকাছি এলাকায় লঘুচাপ অবস্থান করছে। এর একটি বাড়তি অংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ূ বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র মাঝারি ধরনের সক্রিয় রয়েছে।

প্রায় ৭০ বছরের রেকর্ড তাপমাত্রায় হাঁসফাঁস দশায় পড়া মানুষের মুক্তি চেয়ে শুক্রবার ও শনিবার রব্বেকা’বার দরবারে হাত পেতেছেন দেশের শীর্ষ আলেম, সিলেটের কৃতি সন্তান আল্লামা আলিমুদ্দীন দুর্লভপুরি। তিনি বলেন,গরমের এই তীব্রতার কারণে এখন সবাই বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে আছে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা সহনীয় হয়ে উঠবে বলে আশাবাদী মানুষজন। মূলত আমাদের পাপের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন দুর্যোগ,মহামারি দিয়ে আমাদেরকে পরীক্ষা করেন। ভয়াবহ জাহান্নামের কথা স্মরণ করে দেন। মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলে দুনিয়া প্রেমে মত্তো হয়,তখন তাপদাহ,খরা,বন্যা,মহামারি,বিভিন্ন দুর্যোগ দেখা দেয় পৃথিবীতে। আবার কখনো আল্লাহ তায়ালা সন্তান,স্ত্রী,সম্পদ কেড়ে নিয়েও আমাদের ধৈর্য পরীক্ষা নেন। সিলেটের এবারের ইতিহাসরেকর্ড তাপদাহ আমাদেরই কর্মফল। অতীতে এমন উষ্ণতা আর অনুভব করি নি। মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেছি, ভয়াবহ এ তাপদাহ থেকে সিলেটবাসীকে মুক্তিদান করে রহমের বারি নাজিল করার। আল্লাহ আমাদের সকলকে হেদায়াত নসিব করুক। বেশি বেশি ভাল কাজের তাওফিক দিক।পুণ্যভূমি সিলেটকে সকল মসিবত থেকে হেফাজতে রাখুক।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ইত্তেহাদুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন-এর একটি প্রতিষ্ঠান copyright 2020: ittehadtimes24.com  
Theme Customized BY MD Maruf Zakir