1. admin@idealmediabd.com : Sultan Mahmud : Sultan Mahmud
  2. abutalharayhan62@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  3. nazimmahmud262@gmail.com : Nazim Mahmud : Nazim Mahmud
  4. tufaelatik@gmail.com : Tufayel Atik : Tufayel Atik
মেহেদি রঙ - ইত্তেহাদ টাইমস
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১২:১৩ অপরাহ্ন

মেহেদি রঙ

উবাইদুল্লাহ জাফর
  • প্রকাশটাইম: মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১

ছেলেটা দৌঁড়াচ্ছে। পেছনে উদ্গ্রীব জনগণ। স্বাভাবিকভাবেই বুঝা যাচ্ছে এখানে ছেলেটা দোষী। পেছনের লোকেরা ছেলেটিকে অকথ্য ভাষায় গাল দিচ্ছে। সেদিকে ছেলেটির কোনো‌ ভ্রুক্ষেপ‌ নেই। সে ছুটছে। পিচঢালা প্রান্তর মাড়িয়ে।মজনু মিয়া ঠেলাগাড়ি চালায়। চার জন সদস্যের ছোট্ট একটি সংসার তার। একটি ছেলে। নাম শুভ। চার বছর বয়সী একটা মেয়েও আছে। নাম সাদিয়া। আর তার স্ত্রী কমলা বেগম। থাকে কাঁচা বাজারের পেছনের বস্তিতে। সারাদিনে মজনু মিয়া যা রোজগার করে — তা থেকেই পরিবারের বেঁচে থাকা। আর্থিক টানপোড়ন থাকলেও এ পরিবারের আত্মমর্যাদাবোধ খুব বেশি। কোনোদিন কারো দ্বারে হাত পাতে না তারা। কামাই হলে খায়। না হলে না খায়। খুবই শরিফ মানুষ মজনু মিয়া।প্রতিদিনের মতো আজও ঠেলাগাড়ি নিয়ে বের হলো মজনু মিয়া।
সামনে ঈদ। ছেলেটিকে না হলেও অন্তত ছোট মেয়েটিকে কিছু দিতেই হয়। মজনু মিয়ার মাথায় সারাক্ষণ এসব চিন্তাই ঘুরপাক খায়। মেয়েটা মাঝে মাঝে মজনু মিয়ার গলা জড়িয়ে গালে মিষ্টি চুমু দিয়ে বলে —‘ আব্বু আব্বু! এবাল কিন্তু আমাল একতা মেহেদি তাই। কাতের তুড়ি কিনে দিবা। আমি হাতে দিয়ে ঘুলবো!’ পাশেই থাকে শুভ। ছোট বোনের তোতলামি কথা শুনে ফিক করে হেসে দেয় সে। মজনু মিয়া মেয়েকে কোলে বসিয়ে দু’গালে এঁকে দেয় স্নেহের পরশ। মজনু মিয়া এমন ছোট ছোট সুখ থেকে শক্তি খোঁজে পান। আজ তেমন কাজ পাচ্ছেন না। নিচ দিকে তাকিয়ে বিষণ্ন মনে ঠেলাগাড়ি নিয়ে হাঁটছেন মাঝপথে। অন্যদিকে কোনো খেয়াল নেই তাঁর —“ মেয়েকে যে মেহেদী আর চুড়ি কিনে দিতেই হবে। এদিকে বউটারও একটা ভালো শাড়ি নেই। ছেলেকে রোজার ঈদে নতুন জামা দেয়া হয়েছে। এবার না হয় নাই দিলাম।” আজ মজনু মিয়ার ভাবনা জুড়ে এসব। এদিকে সে বেখেয়ালে ঢুকে পড়েছে রাস্তার উল্টোদিকের লাইনে। হঠাৎ একটা ট্রাক ধাক্কা দিয়ে চলে যায় মজনু মিয়াকে। ভাবনাগুলো উড়ে যায় আকাশে। ঠেলাগাড়ির পাশেই পড়ে থাকে একজন ভাবনাহীন মানুষ। নিস্তব্ধ তার দেহ। চেহারায় কাটচিটে পড়ে গেছে। ঠিকমতো চেনা যাচ্ছে না চেহারা। রক্তের বানে ভেসে যাচ্ছে পিচঢালা সরণি।মজনু মিয়ার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। শুভ কাজের জন্য ঘুরে মানুষের দ্বারে দ্বারে। বয়সে ছোট হওয়ায় কেউ তাকে কাজ দেয় না। এদিকে ছোট বোনটা আর কি বোঝে! মাঝে মাঝে তার মাকে বলে —‘ মা আব্বু কোথায়? আমাকে মেহেদি কিনে দেবে না!’ কমলা বেগম শাড়ির আঁচলে মুখ লুকায়। ছোট মেয়ের দৃষ্টি আড়াল করতেই এ ব্যর্থ চেষ্টা।কোথাও কাজ না পেয়ে অবশেষে নিষিদ্ধ জগতে পা বাড়ায় শুভ। পেটের দায়ে যে কিছু করতেই হবে তাকে। আজ এক ভদ্র লোকের মানিব্যাগ ছিনতাই করেছে শুভ। বিক্ষুব্ধ জনতা তার পিছে ছুটছে। শুভও দৌঁড়াচ্ছে। তাকে দৌঁড়াতেই হবে। আরো দ্রুত। বোনটার ছোট ছোট হাত দুটো রাঙাতেই হবে ‘মেহেদির রঙে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ইত্তেহাদুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন-এর একটি প্রতিষ্ঠান copyright 2020: ittehadtimes24.com  
Theme Customized BY MD Maruf Zakir