1. admin@idealmediabd.com : Sultan Mahmud : Sultan Mahmud
  2. abutalharayhan62@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  3. nazimmahmud262@gmail.com : Nazim Mahmud : Nazim Mahmud
  4. tufaelatik@gmail.com : Tufayel Atik : Tufayel Atik
যাতনা মাখা ইদ - ইত্তেহাদ টাইমস
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন

যাতনা মাখা ইদ

উবাইদুল্লাহ জাফর
  • প্রকাশটাইম: মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০২১

বাবা এবার কুরবানি দেবেন। আমাদের গাভীটি আমরা মধ্যবিত্ত। তাই প্রতি বছর কুরবানি দেয়ার সুযোগ হয়ে ওঠে না। আলহামদু লিল্লাহ এবার হয়েছে। আমাদের পড়ালেখার খরচ টানতে গিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের হক তিনি আদায় করতে পারেন না। দু’এক সাঁঝ এনে খাওয়াতে পারেন না। এবার পারবেন। পুরো একটা গাভী। গোশতের কোনো সংকট হবে না। সবাইকে নিয়ে আমার বাবা আহ্লাদ করে খাবেন। সবচাইতে বড় কথা — আমার দাদীজান। বাবা দাদীজানকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেন। এবার ইদে মাকে প্রাণভরে গরুর কলিজাটুকু ভুনা করে খাওয়াবে নিজ হাতে তুলে। এটাই তাঁর চাওয়া। অজানা এক আনন্দে বাবা চোখ দিয়ে অশ্রু গড়ে। আপ্লুত হন। যেন কতদিনের আশা!
সামনেই কুরবানির দিন। দিন পনেরো আছে। আমার দাদীজান দাদাভাইকে বলতো —‘ আমি সাতদিন আগেই ছেলের বাড়ি গিয়ে থাকবো। শান্তি মতো গোশত খাব । আমার ছেলে এবার কুরবানি দেবে!’ এমনিতেই দাদু আমাদের বাড়িতে দৈনিক আসতেন। বসে থাকতেন। শুয়ে থাকতেন। ভালো-মন্দ জোগাড় হলে খাইয়ে দিতাম। আমার বাবাও খুব শ্রদ্ধা করতেন এবং ভালোবাসতেন। আমরা বসে বসে গল্প করতাম দাদুর সঙ্গে। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিলো। ইদের আর মাত্র সপ্তাহ খানিক বাকি। হঠাৎ একদিন দাদুর শরীরের চাপ বেড়ে গেলো। দ্রুত ডাক্তার দেখানো হলো। তারপর তিনি দিন দিন দুর্বল হয়ে যেতে লাগলেন। এতদিন তাকে দেখে বয়স বোঝা যেত না। মাথার একটি চুলও পাকে নি এখনো। কিন্তু এখন বোঝা যাচ্ছে — চামড়া ঢিলে হয়ে গেছে। শরীর ভেঙে গেছে —আরো দুর্বল হয়ে গেছে।
ইদানিং দাদু সারাক্ষণই ঘুমায়। ডাকলেও সাড়া দেয় না। একদিন শেষ রাতে দাদু জরুরত সারতে উঠেছেন। বৃষ্টি হচ্ছে মুশলধারে। তিনি একাই উঠেছেন। কাউকে ডাক দেন নি। জরুরত সেরে উঠোনে আসতেই দাদুর মাথার ভেতর চক্কর দেয়। বেহুঁশ হয়ে যান। ঘটনাটা কেউ জানে না। সবাই ঘুমে অচেতন। পুরোটা বৃষ্টি দাদুর গায়ের ওপর দিয়ে যায়। সোমবার (১৯জুলাই) সকাল। আর একদিন পর ইদ। আনন্দের দিন। ফজর পরই মোবাইলে একটি কল এলো। ধরলাম। বড় ফুফুর কণ্ঠ। —“ তোর আব্বাকে তাড়াতাড়ি আসতে বল। মায়ের অবস্থা ভালো না।” আমি বাবাকে ডেকে দিয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। বাবা চলে গেলেন। বাবাও অসুস্থ। এক সপ্তাহ জুড়ে জ্বর। হঠাৎ কারো চিৎকার-চেঁচামেচিতে ঘুম ভাঙলো আমার। আমি আঁতকে উঠলাম। কারণ, সে কাঁদতে কাঁদতে বলছে —‘ এ উবায়দুল! তোর দাদী নাই। তুই এখনো ঘুমাস!’ আমি হতচকিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠলাম। যে কাঁদছিলো সে সম্পর্কে আমার ফুফু। তবে প্রতিবেশী। আমি তাকে ধমক দিলাম —‘ চুপ করেন! ভালো মানুষ মরে নাকি!’ তবুও আমি পাঞ্জাবী হাতে নিয়েই ছুটলাম। লোকমুখে শুনলাম ঘটনা সত্য। আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। এটা কি করে সম্ভব! আমি স্বপ্ন দেখছি বোধহয়। ঘুম ভাঙলেই দেখবো এটা দুঃস্বপ্ন।আগামীকাল ইদের সকাল। প্রতি ইদেই ইদগাহে যেতে সামনে পড়তো দাদুর বাড়ি। উঠতাম সেখানে। দাদু গালে-মুখে চুমু দিয়ে মিষ্টি-সেমাই-পিঠা খেতে দিত। আমি অল্প একটু খেয়েই ইদগাহে যেতাম। নামাজ শেষে ইদগাহ থেকে ফিরতে দাদুর জন্য কিছু কিনে আনতাম। দাদু আবার গোশত-পোলাও খেতে দিতেন। আমি খেতাম, দাদু দেখত। মাথা নেড়ে দিত। আরো খাওয়ার জন্য যাচত। আগামীকালও সেদিক দিয়েই যাবো। সে বাড়িতেও যাবো। কিন্তু কেউ আসবে না। খেতেও দেবে না। সেখানে দাদাভাই আছেন। তিনি বোধহয় শোকে পাগল‌ হয়ে গেছেন। খুব ভালোবাসা ছিলো তাদের। আমি কোনোদিন দু’কথা লাগতে দেখি নি দু’জনার। সে-ও আজ একা। আমার বাবা কাকে গরুর কলিজা ভুনা মুখে তুলে খাওয়াবে। কেই বা আমার মাথা নেড়ে যাচবে —‘ ময়নারে আরেকটু খা। মনে পড়বে একদিন।’ সত্যি আজ খুব বেশি মনে পড়ছে। এটা ইদ ! নাকি যাতনার নিদ! তবুও ইদ মুবারাক হোক।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ইত্তেহাদুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন-এর একটি প্রতিষ্ঠান copyright 2020: ittehadtimes24.com  
Theme Customized BY MD Maruf Zakir