1. admin@idealmediabd.com : Sultan Mahmud : Sultan Mahmud
সুখের মতো কান্না || আব্দুল্লাহ আল মামুন - ইত্তেহাদ টাইমস
শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার অর্জনে সরকার বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে : সিলেট বিভাগীয় কমিশনার শনিবার মাওলানা আব্দুল মতীন ফাউন্ডেশন সিলেটের শীতবস্ত্র বিতরণ মতবিরোধ পরিহার করে মুসলিমদের এক হওয়ার ডাক দিলেন এরদোগান ট্রাম্প সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন, দায় তাকেই নিতে হবে: নির্বাচনী কর্মকর্তা দেশে করোনাভাইরাসে আরও ৩৮ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২১৯৮ বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান এবার উন্মুক্ত স্থানে নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করোনায় দেশে গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৩১ মৃত্যু, শনাক্ত ২২৯৩ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর রোগমুক্তি কামনায় গোয়াইনঘাট গ্রাম পুলিশের মিলাদ মাহফিল সাঈদুর রহমান লিটনের কবিতা “ফুলকি” দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাখাসসুসের মাদরাসা প্রতিষ্ঠা জরুরি : আল্লামা আলিমুদ্দিন দুর্লভপুরী

সুখের মতো কান্না || আব্দুল্লাহ আল মামুন

রিপোর্টার নাম:
  • প্রকাশটাইম: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সুখের মতো কান্না || আব্দুল্লাহ আল মামুন

আরিফুল ইসলাম।  বয়স আনুমানিক ১০ কিংবা ১১ বছর হবে। তিন ভাইয়ের মধ্য সে সবার বড়। আরিফের পিতা আকরামুল ইসলাম রাজন। একজন সরকারী কর্মকর্তা। অর্থকড়িও কম নেই। যথেষ্ট বিত্তশালী একজন ব্যক্তি।

আরিফ যখন জন্মগ্রহণ করে, সবাই তো আনন্দে আত্মহারা। পিতা-মাতার প্রথম সন্তান। আবার দাদা-দাদির প্রথম পৌত্র ছেলে। ঐ দিকে আরিফের মাতা ভাই-বোনের মধ্যে বড়, তাই আরিফ তার নানা-নানির প্রথম দৌহিত্র।

তার আদর-সোহাগ সবার নিকট একটু বেশিই ছিল।

আরিফ যখন হাঁটা শিখল। সে সমগ্র বাড়ি একাই তার ছোট ছোট পায়ে হেঁটে বেড়াত। পুরো বাড়িটা মুখরিত হয়ে যেত তার আনা-গোনায়। একদিন সে কোথাও গেলে পুরো বাড়িটাতে  ছমছম আওয়াজ বিরাজ করত। বাড়ি টা ফাঁকা ফাঁকা লাগত।

এভাবে আরিফের শৈশবকাল দুই বছর অতিবাহিত হয়ে গেল। হঠাৎ দুইবছর পর তার পায়ে একটা  সমস্য দেখা দিল। তা হল,সে পায়ে শক্তি পাচ্ছে না। ঠিকমত হাঁটতে পারছে না। কেমন যেন অবশ হয়ে যাচ্ছে তার পা।

এই রোগকে ডি.এম.ডি.রোগ বলে। এই রোগের জন্য তার পিতা-মাতার কত টাকা যে, ব্যয় হয়েছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। দেশসহ বিদেশের মাটিতেও নিয়ে গিয়েছে তার পায়ের জন্য। কিন্তু না, কোনো জায়গা-ই তার পা কে  সেই আগের মত সুস্হ করতে পারেনি। আস্তে আস্তে আরিফ হাঁটার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।

আরিফ এখন হাঁটতে পারে না। বেশি সময়-ই তার বিছানায় অতিবাহিত হয়। আরিফের মেঝে ভাই সাজ্জাদ তার বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করে।ছোট ভাই সাফিন সবেমাত্র হাঁটা শিখেছে। মেঝে ভাই আর ছোট ভায়ের হাঁটা দেখে আরিফ শুধু অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
আর মনে মনে ভাবে আমি যদি সেই আগের মত  হাঁটতে পারতাম।

এই তো ঈদের দিনের কথা।  আরিফের পিতা ও দাদা  তার মেঝে ভাই আর ছোট ভাইকে নিয়ে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়তে গেল। আরিফ ইচ্ছা করেও যেতে পারছে না। কারন সে তো হাঁটতে পারে না। চোখের এক কোণায় তার অশ্রু দেখা যায়। তবুও তার মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠেছে। সে তার আম্মুকে বলে বিছানার ওপর একটা জায়নামাজ পেতে ঈদের নামাজ পড়ছে।
তাকে শান্তনা  দেওয়ার মত ভাষা হারিয়ে ফেলেছে তার পরিবার।  আরিফের মা তার আড়ালে গিয়ে চোখের পানি থামাতে পারছে না।

আমাদের চারিদিকে এমন অনেক আরিফ আছে। যাদের অব্যক্ত কথাগুলি অব্যক্তই রয়ে যায়। ব্যক্ত করার সুযোগ আর হয়ে উঠে না। আমাদের উচিত তাদের মানুষিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ করে তোলার জন্য সবসময় তাদের পাশে থাকা। তাদের মনের কথাগুলি উপলদ্ধি করার চেষ্টা করা।

এটি//

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
copyright 2020: ittehadtimes24.com
Theme Customized BY MD Maruf Zakir