1. admin@idealmediabd.com : Sultan Mahmud : Sultan Mahmud
  2. abutalharayhan62@gmail.com : Abu Talha Rayhan : Abu Talha Rayhan
  3. nazimmahmud262@gmail.com : Nazim Mahmud : Nazim Mahmud
  4. tufaelatik@gmail.com : Tufayel Atik : Tufayel Atik
স্বাধীনতার মহানায়ক আব্দুল হামিদ খান ভাসানি আজও কেন অজানা - ইত্তেহাদ টাইমস
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১২:২৫ অপরাহ্ন

স্বাধীনতার মহানায়ক আব্দুল হামিদ খান ভাসানি আজও কেন অজানা

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ
  • প্রকাশটাইম: শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১

বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতীয় নেতা, দারুল উলুম দেওবন্দের মেধাবী ছাত্র, শায়খুল হিন্দ রহ.-এর শিষ্য মুফতি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানি রহ. কেন আজ ইতিহাসে কমরেড বলে পরিচিত? শায়খুল হিন্দের ছাত্র হিসেবে হযরত মাদানি রহ., থানভী রহ., ইলিয়াস রহ.,কাশ্মিরী রহ.সহ বজুর্গদের নাম জানলেও আজীবন গণমানুষের সংগ্রামী এই মাওলানাকে জানি না? অথচ তিনি হক্কানী পীর ছিলেন, ছিল তার হাজার হাজার ভক্ত-মুরিদান ও খানকা।মাওলানা ভাসানী রহ.-এর দীর্ঘ জিহাদী কাযর্ক্রম ও দ্বীনী জজবাকে কারা গোপন করেছে? কেন? বাংলা পিডিয়াসহ জাতীয় জ্ঞানকোষে আজ কেন তার সঠিক ইতিহাস নেই? বর্তমান প্রজন্ম ভাসিনিকে কতটুকু জানি!ভাসনির জীবনী কেন আজো খণ্ডিত? কোন অপরাধে? কার অবহেলায়? ১৯৩৭ সালে মুসলীম লীগে যোগ দিয়ে রাজনীতিতে পদার্পণের আগের ৫১ বছরের জীবন নিয়ে কোন চর্চা গবেষণা নেই কেন? পুর্ণাঙ্গ ভাসানি চর্চা কেন হচ্ছে না। কাদের অবহেলা আর চিন্তার দৈন্যতার ফলে আপন ভাসানি পর হলেন। তারাও বলে আমাদের ভাসানি, আমরাও বলি তাদের ভাসানি। মাওলানা ভাসানিকে কমরেড আর সমাজতান্ত্রিক নেতা হিসাবে মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচিতি পেলেন? উইকিপিডিয়া বলছে, তিনি প্রভাবিত হয়েছেন কার্ল মার্ক্স, মাঙ সে তুং। প্রভাবিত করেছেন রাশেদ খান মেননকে।কিন্তু Wikipedia আবার একই প্রবন্ধে বলেছে, আইয়ূব খান সরকারের পতনের পর নির্বাচনের পূর্বে ‘ভোটের আগে ভাত চাই, ইসলামিক সমাজতন্ত্র কায়েম চাই’ এই দাবী উত্থাপন করেন। যে মানুষটি ইসলামী সমাজতন্ত্র কায়েমের দাবী পেশ করলেন ৭০ সালে। তিনি এর মাত্র ছয় বছর পর ১৯৭৬ সালে মৃত্যুর পর কমরেড আর মাক্সবাদী হয়ে গেলেন কিভাবে?তিনি ইসলামী সমাজতন্ত্রের প্রবক্তা মুহাম্মদুর রাসুল সা. এর প্রভাবে প্রভাবিত না হয়ে কিভাবে কাল মাক্সের প্রভাবে প্রভাবিত হতে পারেন? এই প্রশ্নের উত্তর কে খোঁজবে? কারা খোঁজবে?
আমাদের ঘুমন্ত্র চেতনা কি জাগবে না? এই তথ্য সন্ত্রাসের বিরোদ্ধে কাজ করতে কি জাগবে না কেউ। আমরা খুঁজে বের করতে পারি না ইতিহাসের সেই চাপা পড়া সত্যকে? যে ভাসানী রহ. ছিলেন শায়খুল হিন্দ চেতনার নায়ক। তার হাতে তিনি নিয়েছিলেন স্বাধীনতা ও আযাদীর লড়াইয়ের জেহাদী বাইয়াত। “ভাসানী জীবনের অজানা ইতিহাস” নিয়ে আমার লেখা একটি বই আজ ১১বছর ধরে পাণ্ডুলিপি আকারেই আছে। কে ছাপবে? কার এতো প্রয়োজন? একজন মাওলানা এদেশের মুক্তি লড়াইয়ে অসামান্য অবদান আর জাতীকে গণচেতনায় রাজনৈতিক বলিষ্ট নেতৃত্ব প্রদানকে আড়াল করতেই কলমের মাধ্যমে বুদ্ধিভিত্তিক এতো নাটক আর ভাসানি ইতিহাস নিয়ে এতো গাফলা তৈরি করে রেখেছেন বামরা। আমরা পানের পিক গিলেছি আর তা মুছে দিয়েছি,এদিকে মাক্সবাদীরা পরিকল্পিতভাবে এক মাওলানাকে নিয়ে নাটক, সিনেমা, গল্প কবিতা আর ইতিহাস তৈরি করেছে নিজের মতো করে। গণরাজনৈতিক চেতনায় ভাসানি যখন তন্ময় ইসলামি সমাজতন্ত্র নিয়ে, তখন আমাদের শায়েখরা দরস আর খানকাতেই ব্যস্ত ছিলেন।বঙ্গবীর কাদের সিদ্দেকী গত কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ প্রতিদিনে বলেছেন, ভাসানির সৃষ্টি বঙ্গবন্ধু, আর বঙ্গবন্ধুর সৃষ্টি আমরা। ভাসানির জন্ম না হলে বঙ্গবন্ধু সৃষ্টি হতেন না, সৃষ্টি হত না বাংলাদেশ। তাই বাংলাদেশের ইতিহাস ভাসানিকে এড়িয়ে লেখা সম্ভব নয়। বায়ান্নর মহান রাষ্টভাষা আন্দোলনের তিনি ছিলেন প্রধান প্রেরণা দাতা। সর্বদলীয় রাষ্টভাষা কর্মপরিষদের তিনি ছিলেন প্রথম সভাপতি। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এদেশের প্রতিটা আন্দোলনের পুরোভাগে ছিলেন তিনি। স্বাধীনতা আন্দোলনে তার গৌরবদীপ্ত ভূমিকার কথা জাতি এখনো শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।
১৯৫৪ সালে যুক্তফন্টের জোটে ( হক, ভাসানি, আতাহর জোট) মাওলানা আতাহর আলীর নেতৃত্বে মাওলানারা ভাসানির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলালেন। তিনি সকল কওমী আলেমদের কাছে টানলেন, বুকে টানলেন। বিস্তারিত দেখুন, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থে। সেই জোটে আলেমদের নিয়ে আসলেন সবার মতামত উপেক্ষা করেই। ৪জনকে মন্ত্রী বানালেন, একজনকে স্পিকার, ৩২জন আলেম তখন এমপি হলেন ভাসানীর অবদানে।কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এর পর ৭১ সালের পর বঙ্গবন্ধুর বাকশালের সময় বামদের দমন নিপিড়নের সময় কোন পথ না পেয়ে সুবিধাবাদী কালমাক্সরা কোন নেতা তখন বাকশালের বিরোদ্ধে সাহস নিয়ে কথা বলার মতো না পেয়ে ভাসানির সফেদ পাঞ্জাববর আস্তিনের নিচে আশ্রিত হয়েছিল । বামদের আশ্রয় দেয়ার উদারতাটুকু কাল হয়ে দাঁড়াল ভাসানির জন্য। তারা এই সুযোগের অপব্যবহার করে পরবর্তি সময়ে তার মেকী ভক্ত সেজে অপপ্রচার করলো কমরেড ভাসানি আর মাক্সবাদী ভাসানি বলে। ভাসানি ডান বাম নিয়ে তখন ন্যাপ আওমী পার্টি গঠন করেন। ভাসানি চেতনার সাথে থাকতে না পেরে আলাদা ন্যপ ( মোজাফ্ফর) বামরা কেন গঠন করেছিল, সে ইতিহাস কেন আজ চাপা পড়া?
১৯৪৭ সালে তার প্রতিষ্ঠিত ” হুকুমতে রব্বানিয়াত” পার্টিকে মৃত্যুর আগে কেন আবার চাঙ্গা করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কী ছিল হুকুমাতে রব্বানিয়াতের লক্ষ্য উদ্দ্যেশ্য, তা কি কখনো বেরিয়ে আসবে না? কেন মৃত্যুর পূর্বে ” খোদায়ী খেদমতগার” গঠন করেছিলেন একজন কমরেড! খোদার প্রতি কেন এতো প্রেম আর ভালবাসা ছিল তার! তা নিয়ে কি গবেষণার এখনো সময় আসে নি আদর্শিক তারুণ্য আর সত্যিকারের ভাসানি সৈনিকদের।
হে আল্লাহ, তাকে জান্নাতের সবোর্চ্চ মাকাম দান করুন,আমিন!

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ইত্তেহাদুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন-এর একটি প্রতিষ্ঠান copyright 2020: ittehadtimes24.com  
Theme Customized BY MD Maruf Zakir