1. admin@idealmediabd.com : Sultan Mahmud : Sultan Mahmud
হঠাৎ || আর আই রাতুল - ইত্তেহাদ টাইমস
মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান এবার উন্মুক্ত স্থানে নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করোনায় দেশে গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৩১ মৃত্যু, শনাক্ত ২২৯৩ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর রোগমুক্তি কামনায় গোয়াইনঘাট গ্রাম পুলিশের মিলাদ মাহফিল সাঈদুর রহমান লিটনের কবিতা “ফুলকি” দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাখাসসুসের মাদরাসা প্রতিষ্ঠা জরুরি : আল্লামা আলিমুদ্দিন দুর্লভপুরী মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে কঠোর হচ্ছে সরকার নাইজেরিয়ায় নামাজের সময় মসজিদে সন্ত্রাসীদের হামলা; নিহত ৫ ভাস্কর্য ও মূর্তির অপব্যাখ্যাকারীরা হক্কানী আলেম হতে পারে না: আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চক্রান্ত বরদাস্ত করা হবেনা: আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় ফজরের নামাজ পড়ানোর সময় ইমামের মৃত্যু

হঠাৎ || আর আই রাতুল

আর আই রাতুল
  • প্রকাশটাইম: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২০

হঠাৎ | আর আই রাতুল

হঠাৎ দেখলাম আমি এক গভীর জঙ্গলে। পেছনে তাকিয়ে দেখি বিশাল বড় এক অজগর আমার দিকে তাকিয়ে জিহ্বা লকলক করছে। ধীরে ধীরে আমার দিকে এগিয়ে আসছে সে। আমি ভয়ে প্রাণপণে সামনের দিকে দৌড়াতে শুরু করলাম।পেছনে একবার তাকিয়ে দেখি অজগর শয়তানটা আমার পিছু এখনও ছাড়ে নি। সামনে দৌড়াতে দৌড়াতে দেখলাম একটা সিংহ বসে আছে! আমাকে দেখে গর্জন শুরু করে দিয়েছে। দৌড়ে আসছে সামনে থেকে সিংহ। পেছনে অজগর দ্রুত মাটি বেয়ে আসছে। আমি কী করবো বুঝতে পারছিলাম না।

হঠাৎ করে আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। আমি বামে দৌড়াতে শুরু করলাম। পেছনে সিংহ,অজগর কী করছে আর তাকালাম না। কিছুদূর এগোতেই হঠাৎ দেখি একটা বাঘ!আমাকে দেখেই হুঙ্কার ছাড়লো। আমি আবার পেছন দিকে দৌড়াতে শুরু করলাম।

হঠাৎ পেছন থেকে সিংহ আর অজগর এসে থামলো। বাঘও থামলো। আমি তিন ভয়ঙ্কর প্রাণীর মাঝে। ফাঁকা ফোকর দিয়ে যাবার সুযোগ পর্যন্ত নেই। আমি ভয়ে ঘামাতে শুরু করলাম। জোরে বাতাস বইছে, কিন্তু সে বাতাসে কোন শীতলতা নেই।সেই বাতাস উত্তপ্ত।

হঠাৎ অজগর মুখ থেকে এক বালতি পানি বের করে,আমার মুখে ছুঁড়ে মারলো। আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম। আমার বুঝতে বাকী রইলো না,এরা আমাকে পানি দিয়ে ধুয়ে আগুনে জলসে তেল দিয়ে ভেজে মজার করে খাবে।
হঠাৎ আমি চিৎকার করে দু চোখ খুললাম।দেখি আমি আমার বেডরুমে।মা পানির গ্লাস হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আমার মুখমন্ডল ও গেন্জিটা সামান্য ভেজা।তার মানে মাই পানি ঢেলেছে।

মা বললো,” এত সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকতে ভালো লাগে?ভার্সিটিতে যেতে হবে? যা ওঠো, তাড়াতাড়ি। ”

আমি ওঠে গিয়ে ফ্রেশ হলাম। ফ্রেশ হয়ে নাস্তার টেবিলে এসে নাস্তার প্লেটটা হাতে নিলাম। প্লেটটা হাতে নিতেই হঠাৎ হাত ফসকে নিচে পড়ে ভেঙ্গে গেলো প্লেটটা।

মা দৌড়ে এসে পরিস্থিতি দেখে বললো,”তোকে মাইর দেওয়া অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছি।কিন্তু এখন মনে হচ্ছে,তোকে ঠাস করে একটা থাপ্পড় দেওয়া দরকার। এই,তোর নাস্তা খেতে হবে না,যা উঠ এখান থেকে।”

আমি অসহায় ভঙ্গিতে রুমে গিয়ে রেডি হয়ে বাহিরে যাচ্ছি।বাসার ফ্লোর মোছা হয়েছে পানি দিয়ে।হঠাৎ পা পিছলে মেঝেতে একটা আছাড় খেলাম আমি। শার্টটা ছিঁড়ে গেলো খানিকটা। তাড়াতাড়ি ওঠে আরেকটা শার্ট পড়ে নিয়ে বের হলাম।

আমি বাসে উঠলাম। হঠাৎ একটা তরুণীর সাথে প্রচন্ড একটা ধাক্কা খেলাম।মেয়েটার হাতের বই গুলো বাসের মেঝেতে পড়ে গেলো। আমি ইতস্তত ভঙ্গিতে বইগুলো উঠিয়ে হাতে দিয়ে স্যরি বললাম।তারপরও মেয়েটা বললো,”চোখ কী কানা? দেখে শুনে চলতে পারেন না?”

ভার্সিটির দিকে যাওয়ার আগে আমার এক বন্ধুর বাসার দিকে যাচ্ছিলাম।হঠাৎ পাখিশূন্য শহরে একটা পাখি এসে আমার মাথার উপর সাদা মল ছেড়ে আমার সুন্দর চুলওয়ালা মাথাটাকে পায়খানা হিসেবে ইউজ করলো। নিরুপায় আমি মসজিদের ওয়াশরুমে ঢুকে পানি ঢেলে মাথা পরিষ্কার করে পকেটের রুমালটা দিয়ে মহছে নিলাম।

আবার হাঁটছি রোডের একপাশ দিয়ে। হঠাৎ অদেখা কেউ উপর থেকে ময়লা পানি আমার সারা গায়ে ঢেলে দিলো।অসহায় আমি দুর্গন্ধযুক্ত পানিগুলো গায়ে নিয়ে উপরে তাকাতে আর কাউকে দেখলাম না।একটা রিক্সা ঢেকে বাসায় যেয়ে গোসল সেরে নিলাম। ভার্সিটিতে আর যাওয়া হলো না।

ভাত খেয়ে টিভি দেখার জন্যে রিমোট হাতে নিলাম,হঠাৎ রিমোটটা হাত থেকে পড়ে গিয়ে দু টুকরা হয়ে গেল।অবাক আমি রিমোটা কোনোমতে জোড়া দিয়ে শো করে রাখলাম সোপায়।

বিকেলে লিখতে বসলাম।নতুন কলম লিখতে ডিস্টার্ব করছিলো।কয়েকবার ঝাঁকিয়ে নিলাম। হঠাৎ দেখি সাদা শার্টটা কালো কালিতে ভরে গেছে।

জামা চেন্জ করে চা বানিয়ে চায়ের কাপ হাতে নিলাম। হঠাৎ হাত থেকে পড়ে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো কাপটা। টুকরোগুলো কুঁড়িয়ে বাইরে ফেলে দিলাম। মোবাইলটা হাতে নিলাম, হঠাৎ মেঝেতে পড়ে মোবাইলোর ডিসপ্লেটা ভেঙ্গে গেলো।

চেয়ারে আর বসলাম না,যদি চেয়ারটা ভেঙ্গে যায়!মেঝেতে বসে পড়লাম,আলমারির পাশে। অসহ্য লাগছে, একাকীত্বের সঙ্গী মোবাইলের ডিসপ্লেও ভেঙ্গে অন্ধকার হয়ে রয়েছে। হঠাৎ একটা বিড়াল আলমারিতে লাপ দিতেই আলমারির উপরে রাখা মোটা মোটা বইয়ের স্তুপসুদ্ধ আমার মাথায় এসে পড়লো।অসহায় আমি অগত্যা বইগুলো গুছিয়ে রাখতে রাখতে সারা দিন খারাপ যাওয়ার ঘটনাগুলো আবার মুখস্থ করতে লাগলাম। রাতে আর ভাতও খেলাম না,যদি প্লেট ভাঙ্গে।

রাত দশটা। ঘুমাতে খাটে উঠলাম। হঠাৎ খাটটা কটমট করে প্রচন্ড শব্দব্যায় করে ভেঙ্গে পড়লো!   মা দৌড়ে আসলো দ্বিতীয় বারের মতো।

আমার দিকে অগ্নিমাখা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,”কী করে হলো?”
আমি মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললাম,”ওঠতে গিয়ে হঠাৎ ভেঙ্গে গেলো।”
মা বললো,”তুই এই বাসা থেকে এক্ষুণি বের হো,না হলে হঠাৎ করে বাসাটাই ভেঙ্গে যাবে!”

লেখক: শিক্ষার্থী ও সাহিত্যপ্রেমী।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
copyright 2020: ittehadtimes24.com
Theme Customized BY MD Maruf Zakir